ঋণমুক্ত থাকবেন যেভাবে

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়। কখনো ঋণ করতে হয়। কিন্তু ঋণ করা নাজায়েজ নয়। তবু ঋণ থেকে মুক্ত থাকার বিশেষ গুরুত্ব আছে। ঋণের বোঝা মানুষের ইহকাল ও পরকালের জীবনে অন্ধকার ডেকে আনে। তাই সাধ্যানুযায়ী ঋণমুক্ত থাকা উচিত।

ঋণমুক্ত থাকবেন যেভাবে

ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা ঋণ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ঋণের শুরু হয় দুশ্চিন্তা দিয়ে এবং শেষ হয় সংঘাতের মাধ্যমে।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ১২৬)

এখানে ঋণ থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপায় বর্ণনা করা হলো—

অল্পে তুষ্ট থাকা

অল্পে তুষ্ট ব্যক্তি কখনো হতাশ হয় না। বেশি পাওয়ার লোভ তাকে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত করতে পারে না। তাই ঋণ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হলো আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতে তুষ্ট থাকা। রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যতটুকু বণ্টন করেছেন, তার প্রতি তুষ্ট থাকো, তাহলে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনী হতে পারবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)

তিনি আরো বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সফল হয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাকে প্রয়োজন মাফিক রিজিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট রেখেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৫৪)

অল্পে তুষ্ট হৃদয় মানুষকে সব সময় ঋণমুক্ত জীবনের দিকে আহ্বান জানায়।

উঁচু শ্রেণির লোকদের দিকে না তাকানো

কখনো কখনো বেশি বিলাসিতা ঋণ করতে প্ররোচিত করে। ঋণ থেকে বাঁচার আরেকটি উপায় হলো সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকদের দিকে না তাকিয়ে সব সময় নিচু শ্রেণির লোকদের দিকে তাকানো। বহু মানুষ উচ্চাভিলাষী লোকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঋণ করে থাকে। সে জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের লোকদের দিকে তাকাও। এমন ব্যক্তির দিকে তাকাবে না, যে তোমাদের চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের। যদি এই নীতি অবলম্বন করো, তাহলে আল্লাহর নিয়ামত তোমাদের কাছে ক্ষুদ্র মনে হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৩)

বেশি বেশি দান করা

দানে ধন বাড়ে। দানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার সম্পদ বৃদ্ধি করে তাতে বরকত দান করেন এবং তার অভাব দূর করে দেন। সুতরাং দানের মাধ্যমে কখনো সম্পদ কমে যায় না; বরং এর মাধ্যমে আমাদের সম্পদ বরকতমণ্ডিত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘বলো, নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ৩৯)

ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাওয়া

ঋণ থেকে পরিত্রাণ লাভের অন্যতম বড় উপায় হলো, ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চাওয়া এবং ঋণ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া করা। মহানবী (সা.) ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাইতেন।

আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে প্রায়ই বলতে শুনতাম, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি, ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজজি, ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া দলাইদ দাইনি, ওয়া গলাবাতির রিজাল।’

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের জবরদস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (বুখারি, হাদিস : ৫৪২৫)