একুশের এই দিনে জাবিতে ছয় দফা

সবগুলো আবাসিক হলের তালা ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা ভেতরে অবস্থান নিয়ে হলে থাকার ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদের হলগুলোতে ছাত্ররা রাত্রীযাপন করলেও ছাত্রীদের হল গুলোতে ...

একুশের এই দিনে জাবিতে ছয় দফা
সবগুলো আবাসিক হলের তালা ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা ভেতরে অবস্থান নিয়ে হলে থাকার ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদের হলগুলোতে ছাত্ররা রাত্রীযাপন করলেও ছাত্রীদের হল গুলোতে গতকাল সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় তালা ঝুলানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। 

এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান দাবিরগুলোর সাথে নতুন দাবি যোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে করা দাবিগুলো হলো-

১.সুষ্ঠু ও দ্রুত এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার বিচার করতে হবে।
২. গেরুয়াতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে ক্যাম্পাসে আনতে হবে।
৩. নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল খুলে দিতে হবে। 
৪. শুধু আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সকল ক্ষতিপূরণ কর্তৃপক্ষকে ‍বহন করতে হবে। 
৫. ক্যাম্পাস ও আশেপাশের সকল শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
৬.এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে এর দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে;শিক্ষার্থীরা নয়। 

সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদী হয়ে মামলা করার জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এসময় গেরুয়ায় স্থানীয়রা খাবারের দোকানে খাবার সরবরাহ এবং খাবারের পাসের্ল সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ দেন গেরুয়ায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল খুলে দিতে হবে, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা-ব্যয়সহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, গেরুয়া এলাকায় সীমানা প্রাচীর নিমার্ণ করতে হবে -এই চারটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করে এক সময় তাদের দেওয়া হল খোলার আল্টিমেটাম পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একে একে সবগুলো হলের তালা ভেংঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে।
  
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে সংলগ্ন গেরুয়া এলাকার স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষের জেরে গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট কয়েকটি দাবি জানিয়ে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সুষ্ঠ বিচার, আহতের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, গেরুয়ায় সীমানা প্রাচীরসহ গেইট নির্মাণের দাবি মেনে নিলেও রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থাকায় আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ