এমপি পাপুলের রায়ের কপি সরকারের হাতে

কুয়েতে মানব ও অর্থপাচারের দায়ে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের রায়ের কপি সরকার হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। আজ শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠান ‘উই’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য অবহিত করেন।

এমপি পাপুলের রায়ের কপি সরকারের হাতে
ফাইল ছবি

কুয়েতের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ও দেশটির কারাগারে আটক এমপি পাপুলের ৬১ পৃষ্ঠার রায়ের কপি স্পিকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে বলেও  পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়াকে জানান। 

এমপি পাপুল এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কুয়েতে সংসদ সদস্য হিসেবে নয় ব্যবসায়ী হিসেবে পাপুল কুয়েতে গিয়েছিলেন ।

পাপুলের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স আজকের বাংলাদেশের প্রসারমান অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার সময়োপযোগী এবং সাহসী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজার প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ তা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ই-কমার্সের এই দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে আমাদের নারী উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা আরও বেশী মাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

উল্লেখ্য যে, মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৬ জুন কুয়েতে আটক হন শহিদুল ইসলাম পাপুল। কুয়েতের আদালত এ বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।

গত বছরের জুলাইয়ে পাপুল তার বিরুদ্ধে আনা মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর পাপুলের পরিবারের ৮টি ব্যাংকের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব, ৩০ একরের বেশি জমি, গুলশানের ফ্ল্যাটসহ দেশে থাকা সম্পদ জব্দ করে দুদক। ১১ নভেম্বর অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে আসামি করে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।