এ যেন কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এলো সাপ

রাজধানীর মিরপুরের একটি গাড়ি চুরি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে সংঘবদ্ধ ...

এ যেন কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এলো সাপ
রাজধানীর মিরপুরের একটি গাড়ি চুরি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে সংঘবদ্ধ গাড়ি চুরি ও দোকানে ডাকাতি চক্রের সন্ধান পায় ডিবি পুলিশ। চোরাই গাড়ির কারবারের পাশাপাশি দোকানপাঠ লুট করতো চক্রটি। আধা ঘণ্টার মধ্যে ৫/৭টি দোকান লুট করে ফেলতো। আর এ কাজে ব্যবহার করা হতো চোরাই গাড়ি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রাইভেটকার, ল্যাগেজ, বিভিন্ন দোকানের আংটা কাটা তালা, সিম, ডেমো মোবাইল ও ডেবিট কার্ডসহ চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। গত ৬ জানুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় (মামলা নং-১১) তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

রবিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, ‘গাড়ি চুরির অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলার ছায়া তদন্তের নেমে ডিবি লালবাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম চক্রটির সন্ধান পায়। অভিযান চালিয়ে গাড়ি চুরির অভিযোগে প্রথমে মো. সিদ্দিকুর রহমান (৪৫), মো. নুরু মিয়া (৩৪), হেমায়েত হোসেন ওরফে হিমু (৩৪) ও আবুল বাশারকে (২২) গাজীপুর মহানগরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।’

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, চোরাই গাড়িটি তাদের কাছে আছে এবং গাড়িটি তারা দোকান লুট করার কাজে ব্যবহার করে। তাদের দেখানো মতে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকা থেকে চোরাই প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৭৬৩২) উদ্ধার করা হয়।’

ওই গাড়ির পেছনের দরোজা খুলে একটি তালা কাটার কার্টার ও ল্যাগেজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বরিশাল মেট্রো-ল-১১-২৭৩৮ লেখা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয় বলে জানান ডিবির এ কর্মকর্তা।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘চক্রটি প্রথমে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা যে জায়গার চুরি করবে সেটা রেকি করে। চুরি করার সময় যাওয়া আসার পথ নির্ধারণ করে এবং কোন সময় সিকিউরিটি কম থাকে বা চুরি করার উপযুক্ত সময় তা নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে প্রাইভেটকারে করে ওই স্থানে গিয়ে কাটার মেশিন দিয়ে তালা কেটে দোকান লুটপাট করে খুব দ্রুত সময়ে আবার চলে আসতো।’

তিনি বলেন, ‘এই চক্রটি চুরির কাজটি করতো বিশেষত মধ্যরাতে বা ভোর রাতে, যখন সিকিউরিটি গার্ডও ঘুমিয়ে যেতো। এ কাজের জন্য তারা সময় নিতো খুবই কম। ৩০/৩৫ মিনিটের মধ্যে ৫/৭ টি দোকান লুট করে চলে আসতো।’

তাদের দেয়া তথ্য ও জব্দকৃত এনআইডির ঠিকানায় যোগাযোগ করে জানা যায়, সম্প্রতি অনেকের দোকানের তালা কেটে চুরি হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলাও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে জানা যায়, চুরির ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানায় এবং ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার মামলা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানা যায়, তাদের অপর চক্রের পলাতক সহযোগী কিশোরগঞ্জ জেলার কাশেম (২৮) ও বরগুনা জেলার নাসির (৩১) অত্যন্ত কৌশলে দিনের বেলায় ফেরিওয়ালা সেজে গাড়ির মালিকদের গাড়ি কোথায় রাখে, কোন দোকান ও বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী নেই এবং চুরি করার আগমন ও প্রস্থান পথ রেকি করে। তারপর আলোচনা সাপেক্ষে চক্রের সদস্যরা গভীর রাতে বা সুবিধামতো সময়ে কাটার দিয়ে বিভিন্ন বাড়ি ও দোকানে তালা ও সাটার কেটে টাকা, গাড়ি, মোবাইলসহ মূলবান সামগ্রী লুট করে দ্রুত গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।

এছাড়াও সিডিএমএস পর্যালোচনা দেখা যায় যে, গ্রেফতার সিদ্দিকুর রহমান নামে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার ডাকাতি প্রস্ততি মামলা, ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার চোরাচালান মামলা, ডিএমপি শাহআলী থানার জালনোট মামলা, ডিএমপি সূত্রাপুর থানার মাদক মামলা এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেফতার নুরু মিয়া ডিএমপি দারুসসালাম থানার মাদক মামলা এজাহারভুক্ত আসামি। হেমায়েত হোসেন ডিএমপি ধানমন্ডি থানার খুনের মামলা, ডিএমপি মিরপুর মডেল থানার মাদক মামলা, শাহআলী থানার মাদক মামলা ও পল্টন থানার চুরির মামলাসহ এজাহারভুক্ত আসামি।

ডিবি লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস ব্রেকিংনিউজকে জানান, চক্রটি গত ডিসেম্বর জুড়ে অর্ধশতাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রত্যেকটিতেই তারা ব্যবহার করেছে আগে চুরি করা গাড়ি। এমনও হয়েছে এক রাতে তারা আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৭/৮টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত করে পালিয়ে যেতো। চক্রের গ্রেফতার চারজনকে বিশদ জিজ্ঞাবাদের জন্য মিরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান ডিবি পুলিশের এ কর্মকর্তা। 

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর