করোনায় মৃত ভেবে যুবকের কাছে যায়নি কেউ

রাস্তার পাশে পতিত জমিতে নিথর দেহে পড়েছিল অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। তবে করোনার ভয়ে ও মৃত ভেবে তার কাছে যায়নি কেউ। পরে দুপুরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ময়লা ও নোংরা...

করোনায় মৃত ভেবে যুবকের কাছে যায়নি কেউ

করোনায় মৃত ভেবে যুবকের কাছে যায়নি কেউ

বাংলাদেশ

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

রাস্তার পাশে পতিত জমিতে নিথর দেহে পড়েছিল অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। তবে করোনার ভয়ে ও মৃত ভেবে তার কাছে যায়নি কেউ। পরে দুপুরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ময়লা ও নোংরা অবস্থা থাকায় গোসল ও নতুন কাপড় পরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

বর্তমানে সেবা পেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও জীবন শঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এদিকে পুলিশের মানবিক সহায়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়ড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের কোন এক সময়ে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির নিথর দেহ রাস্তার পাশে পড়েছিল। করোনার ভয় ও মৃত ভেবে আমরা কেউ কাছে যাইনি। বিকালে হাত-পা নাড়ালে কাছে যাই এবং পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে গোসল ও নতুন কাপড় পরিয়ে দেয়। পুলিশের এমন মানবিক কাজে খুশি এলাকাবাসী।’

ভূঞাপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন,  ‘আমরা ঘটনাস্থলেই গিয়ে দেখতে পাই ময়লা-আবর্জনার মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিল লোকটি। এসময় তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে দ্রুত গোসল ও নতুন কাপড় পরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। পরে তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রাজিব পাল বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ঠান্ডাজনিত ও খিঁচুনির সমস্যা পেয়েছি। এছাড়াও সে শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল ও কথা বলতে পারছে না। দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করায় কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। তবে শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর কিছু সময় পরে হাসপাতালে আনা হলে তার শারীরিক পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারত। তাকে সুস্থ করে তুলতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, ‘আমরা নিয়মিত কাজের বাইরেও মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের আওতায় ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের পাশাপাশি আমরাও তার পাশে আছি।’

(ঢাকাটাইমস/১০জানুয়ারি/এলএ)

© dhakatimes24.com