ক্ষুদ্র শিল্পে বিপ্লব ঘটতে পারে দৌলতপুরের চরাঞ্চল

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ প্রমত্ত পদ্মার রোষানলে ডাঙ্গাপথ ভেঙ্গে হলো চর। আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়া যতটা লেগেছিলো সেকালে,সেটুকুও দিলো ভেঙ্গেচুরে।

ক্ষুদ্র শিল্পে বিপ্লব ঘটতে পারে দৌলতপুরের চরাঞ্চল
ক্ষুদ্র শিল্পে বিপ্লব ঘটতে পারে দৌলতপুরের চরাঞ্চল

এইতো  '৯০ -এর দশকেও বৃহৎ এক জনগোষ্ঠী ছিলো বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। দীর্ঘ ভাটার পরে ও-ই সকল লোকালয়ে অর্থাৎ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চরাঞ্চলের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষের ৩৮টি গ্রামে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। বর্তমান সরকারের হাতে নেয়া সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ। সরকার ঘোষিত 'মুজিব বর্ষে' এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। 

প্রথম দফায় ২শ' ২১টি সংযোগের মধ্যে দিয়ে উদ্বোধনের পর প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন ১৭টি সংযোগ বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পটির বাংলাবাজার এলাকায় উদয় নগর থেকে চিলমারী দেড় কিলোমিটার এবং ভাগজত থেকে ইসলামপুর ৫শ' মিটার সংযোগ টানা হবে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। জলপথে তরঙ্গ সরবারাহের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি এই সাবমেরিন কেবলে কোন প্রকার সমস্যা দেখা দিলে অটোমেটিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে যাতে করে জলগর্ভে কোন প্রাণী বা যানচলাচলে কোন প্রকার বিঘœ না ঘটে, এবং বিদ্যুতায়িত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। সাবমেরিন ক্যাবলে কোন কারনে সংযোগ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিকল্প ৩টি উপায়ে সংযোগ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

দু'টি নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নদীর দু'পাড়ে আধা কিলোমিটার করে বৈদ্যুতিক সংযোগের খুঁটিতে গোড়া থেকে ৫ ফুট উঁচু পর্যন্ত ইট সিমেন্টের বিশেষ ধরনের ম্যাপলিং করা হবে। ভরা মৌসুমেও খুঁটিতে দৃঢ়তা রাখতে এই ম্যাপলিং এবং প্রতিটি খুঁটির দৈর্ঘ স্থানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত রাখা হয়েছে। স্থানভেদে পোল গুলোর সাপোর্টিং পোল রাখা হবে।

এসব তথ্য জানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম বলেন, ৪০ থেকে ৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখভালের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। গ্রাহকেরা যেন নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে সংযোগ পায় সেবিষয়ে আমরা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি একটি টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প।

উপজেলার মূল ভূথন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সেবা দেয়া হবে, বাংলাবাজার এলাকায় দুই বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন থাকা সাব স্টেশনটি বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষ আরও উন্নত সেবা পাবে বলে আশার কথা জানিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মির্জা কে.ই তুহিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা দুর্নীতি বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সেচ ও শিল্প খাতে ওই এলাকার মানুষকে বিনামূল্যে দুই খুঁটি পর্যন্ত সংযোগ এবং ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ট্রান্সফরমার দেয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খুব শিঘ্রই ছোট-ছোট শিল্পের  বিপ্লব ঘটবে।

গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট আসন কুষ্টিয়া-১ এর সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন।

গ্রাহকদের যেন প্রতারিত হতে না হয় সে বিষয়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ সহ কয়েক ধাপে সচেতনাতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।