খুলনায় শহীদ মিনার নেই ৯১১ বিদ্যালয়ে

ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেয়ার জন্য শহীদ মিনার নেই খুলনার বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। যেসব ...

খুলনায় শহীদ মিনার নেই ৯১১ বিদ্যালয়ে
ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেয়ার জন্য শহীদ মিনার নেই খুলনার বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সেখানে মাটি, ইট, কলাগাছ, কাপড় ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী শহীদ মিনার। তবে শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ইচ্ছাটুকুও অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলা ও মহানগরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ১৫৯টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ২৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শহীদ মিনার নেই ৯১১টি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এতদিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে তহবিল ঘাটতির কথা বলছেন বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা। তবে, শহরের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে জায়গার সংকটের কথা।

২নং কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাকলি বালা মণ্ডল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। আমি শহীদ মিনার তৈরির কোনও বরাদ্দও পাইনি। ইতোপূর্বে কোনও বরাদ্দ এসেছিল কি-না তা জানি না। তবে আমরা অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।

কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের যেসব স্কুলে শহীদ মিনার নেই। সেসব স্কুলের তালিকা করা হয়েছে। আর ২১ ফেব্রুয়ারির দিন কলাগাছ, ইট অথবা কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করবে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.এস.এম. সিরাজুদ্দোহা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যে খুলনার যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে হয়তো শহীদ মিনার তৈরির বরাদ্দ পাব। বরাদ্দ পেলে ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আগে খুলনার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাদিকুর রহমান খান বলেন, সরকারি বরাদ্দ পেলে খুলনার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যথাযথ ভাবে শহিদ মিনার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মাসিক সমন্বয় সভায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই রকম শহীদ মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমন্বয় সভায় বলা হয়, মাঠ পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিকল্পনাবিহীন শহীদ মিনার স্থাপন করা হচ্ছে। যার ফলে বিদ্যালয়ে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই প্রস্তাবের আলোকে শহীদ মিনারের অভিন্ন নকশা প্রণয়ন করে মাঠ পর্যায়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়, বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে শহীদ মিনার স্থাপন করা যাবে না।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। যার ফলে যেটা হয়েছে যার যেমন খুশি তেমন ডিজাইন করে বানিয়েছে। যে যার মতো করে করেছে, যে কারণে বিষয়টি সুন্দর দেখায় না। সে কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নকশা করে সব স্কুলে পাঠানো হবে। একই রকম শহীদ মিনার যেন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে করা হয় সে নির্দেশনা নেয়া হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এসআই