জকসু নির্বাচন চান ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) আইন প্রণয়নের এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই জকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও তাদের পাশে দাঁড়ানোসহ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা। ছাত্র ইউনিয়ন জবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম জাহিন বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রশাসন একটি খসড়া গঠনতন্ত্র ওয়েবসাইটে ঝুলিয় দিলেও পরবর্তীতে ছাত্র সংসদের বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বারবার ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র এড়িয়ে যাওয়া মানে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার অধিকারকে কুক্ষিগত করা। তাই আমরা ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্রটি সিন্ডিকেটে অনুমোদন দিয়ে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর দাবি জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্র সংসদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতি দ্রুত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও নির্বাচন আয়োজন করার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। উদীচী জবি সংসদের সভাপতি অনিক সাহা সুমিত বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবেশকে পূর্ণাঙ্গতা দান করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠনের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। জবি মুক্তমঞ্চ পরিষদের সভাপতি নাঈম রাজ বলেন, ছাত্র সংসদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ডস্বরূপ। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় ও সার্বিক সমস্যা সমাধানে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের সব দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপিত হবে৷ তাই আমি ছাত্র সংসদের ব্যাপারে প্রশাসনের আন্তরিকতা কামনা করছি। জবি রঙ্গভূমির আহ্বায়ক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ছাত্র সংসদ অত্যাবশ্যক। আমাদের অপ্রাপ্তির খাতা বেশ লম্বা। সেই অপ্রাপ্তির জায়গা পূরণ করতে নিরপেক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাই৷ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি। ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সহ-সভাপতি সুমাইয়া সুমি বলেন, করোনার পূর্ব থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছে৷ শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ছাত্রদের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া সাপেক্ষে জকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন তৎপর হবে সেটিই প্রত্যাশা করি। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিশু বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ছাত্র সংসদ অত্যাবশ্যক। আমরা চাই অতি দ্রুত জকসুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ না থাকাটা দুঃখজনক। তাই প্রশাসনের কাছে আহ্বান শিক্ষার্থীদের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও নির্বাচন আয়োজনের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল আলম টিটন বলেন, ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো নিয়ে বসে জকসু নির্বাচনের দিকে এগোনো উচিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ক্যাম্পাস খোলার পর আমরাও জকসু নিয়ে সোচ্চার হব। রায়হান আহমেদ/এসজে/জিকেএস

জকসু নির্বাচন চান ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) আইন প্রণয়নের এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই জকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও তাদের পাশে দাঁড়ানোসহ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।

ছাত্র ইউনিয়ন জবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম জাহিন বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রশাসন একটি খসড়া গঠনতন্ত্র ওয়েবসাইটে ঝুলিয় দিলেও পরবর্তীতে ছাত্র সংসদের বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বারবার ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র এড়িয়ে যাওয়া মানে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার অধিকারকে কুক্ষিগত করা। তাই আমরা ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্রটি সিন্ডিকেটে অনুমোদন দিয়ে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর দাবি জানাই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্র সংসদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতি দ্রুত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও নির্বাচন আয়োজন করার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

উদীচী জবি সংসদের সভাপতি অনিক সাহা সুমিত বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবেশকে পূর্ণাঙ্গতা দান করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠনের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

জবি মুক্তমঞ্চ পরিষদের সভাপতি নাঈম রাজ বলেন, ছাত্র সংসদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ডস্বরূপ। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় ও সার্বিক সমস্যা সমাধানে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের সব দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপিত হবে৷ তাই আমি ছাত্র সংসদের ব্যাপারে প্রশাসনের আন্তরিকতা কামনা করছি।

জবি রঙ্গভূমির আহ্বায়ক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ছাত্র সংসদ অত্যাবশ্যক। আমাদের অপ্রাপ্তির খাতা বেশ লম্বা। সেই অপ্রাপ্তির জায়গা পূরণ করতে নিরপেক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাই৷ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি।

ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সহ-সভাপতি সুমাইয়া সুমি বলেন, করোনার পূর্ব থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছে৷ শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ছাত্রদের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া সাপেক্ষে জকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন তৎপর হবে সেটিই প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিশু বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ছাত্র সংসদ অত্যাবশ্যক। আমরা চাই অতি দ্রুত জকসুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ না থাকাটা দুঃখজনক। তাই প্রশাসনের কাছে আহ্বান শিক্ষার্থীদের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও নির্বাচন আয়োজনের জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল আলম টিটন বলেন, ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো নিয়ে বসে জকসু নির্বাচনের দিকে এগোনো উচিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ক্যাম্পাস খোলার পর আমরাও জকসু নিয়ে সোচ্চার হব।

রায়হান আহমেদ/এসজে/জিকেএস