রাশিয়ার ‘ডাবল গুপ্তচর’ জর্জ ব্লেক মারা গেছেন

ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্সের সাবেক কর্মকর্তা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর জর্জ ব্লেক রাশিয়ায় মারা গেছেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই গুপ্তচর ‘ডাবল এজেন্ট’ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে গোপনে এমআইসিক্সে কাজ করতেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

রাশিয়ার ‘ডাবল গুপ্তচর’ জর্জ ব্লেক মারা গেছেন
জর্জ ব্লেক ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থায় কাজ করলেও তিনি রাশিয়ার ডাবল এজেন্ট ছিলেন

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে তিনি মারা যান উল্লেখ করে বিবিসি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার অন্যতম কুখ্যাত গুপ্তচর জর্জ ব্লেক মস্কোতে মারা গেছেন বলে রুশ মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে।

মি. ব্লেক ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা এমআইসিক্সে কাজ করলেও তিনি রাশিয়ার ডাবল এজেন্ট হয়ে কাজ করতেন। নয় বছর ধরে তিনি গোপনে রাশিয়ার কাছে তথ্য পাচার করেছিলেন। ১৯৬০ সালে লন্ডনে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মি. ব্লেককে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু ১৯৬৬ সালে কারাগার থেকে পালিয়ে তিনি রাশিয়ায় চলে যেতে সক্ষম হন।

জর্জ ব্লেকের আসল নাম জর্জ বেহার এবং ১৯২২ সালে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে তার জন্ম । তার পিতা একজন স্প্যানিশ ইহুদি, যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করেছিলেন। তিনি পরে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান। অন্যদিকে ব্লেক নিজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কাজ করেন ডাচ প্রতিরোধ আন্দোলনের হয়ে। এরপর তিনি ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড জিব্রাল্টারে পালিয়ে যান। তার এসব অভিজ্ঞতার কারণে পরে তাকে ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

জর্জ ব্লেক ১৯৫৩ সালে

১৯৯০ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জ ব্লেক স্বীকার করেছিলেন শীতল যুদ্ধের সময় তিনি অন্তত পাঁচশোর বেশি পশ্চিমা গুপ্তচরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

মি. ব্লেকের পতনের শুরু হয় এক পোলিশ এজেন্টের মাধ্যমে। মাইকেল গোলেনিয়েস্কি নামে ওই এজেন্ট তার এক রক্ষিতাসহ স্বপক্ষত্যাগ করে পশ্চিমা পক্ষে যোগ দেন। তিনিই জানিয়ে দেন যে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থায় একজন সোভিয়েত গুপ্তচর গোপনে কাজ করছেন। এরপর ব্লেককে লন্ডনে ডেকে এনে গ্রেফতার করা হয়।

রাশিয়ার কেজিবির উত্তরাধিকারীরা জর্জ ব্লেককে একজন ‘হিরো’ হিসেবেই দেখতেন। ব্রিটেনের কারাগার থেকে তার পালানোর কাহিনীকে উপজীব্য করে ১৯৯৫ সালে ‘সেল মেটস’ নামে একটি নাটক লেখা হয়। ২০১৫ সালে বিবিসি তাকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও তৈরি করেছিল।

সুত্রঃ  বিবিসি বাংলা