জৌলুশ হারিয়ে মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদী মৃত খাল, প্রকৃতি হারাচ্ছে জিব বৈচিত্র্য

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদী এখন পানি শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে।পানি না থাকায় বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।এই দুই নদীর দুই পাড় দখল করে করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ।নদীর দুইপাশের ঢাল কর্ষণ ও নদীতে কোমড় দিয়ে মাছ শিকারের কারনে পলি জমে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

জৌলুশ হারিয়ে মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদী মৃত খাল, প্রকৃতি হারাচ্ছে জিব বৈচিত্র্য

দামুড়হুদার কোষাঘাটা,বিষ্ণপুর, কেশবপুর, দামুড়হুদা, রঘুনাথপুর,দর্শনার জয়নগর হয়ে ভরতে প্রবেশ করেছে।অপর দিকে উপজেলা প্রায় ৩০কিলোমিটার ভৈরব নদী মেহেরপুর হয়ে দামুড়হুদার জগন্নাথপুর,হোগললডাঙ্গা,কানাইডাঙ্গা,কার্পাসডাঙ্গা,সুবলপুর হয়ে রঘুনাথপুর মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে মিশেছে।এক সময়ের কানায় কানায় পানিতে  পূর্ণ থাকতো নদী দুটি। খরস্রোতা এই নদী দুটি বর্ষা মৌসুম শ্রাবন, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পর্যন্ত পানিতে কানাই কানায় পরিপূর্ণ থাকে বাকী নয় মাস নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়।বর্ষা শেষে পানি শুকানো শুরু হলে স্থানীয়রা নদীর দুই পাশের ঢাল দখল করে কর্ষণ চাষাবাদ করে। খরা মৌসুমে  কোন কোন স্থানে নদীর মাঝে চর জেগে উঠে তার দুই পাশ দিয়ে শরু নালা হয়ে পানি প্রবাহিত হয় ।কোথাও কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানি  তখন মানুষ নদী দিয়ে  হেটে পারাপার করতে পারে। ঢাল কর্ষন করে মৌসুম হিসাবে ধান, গম, ভুট্টা, তামাক, পিয়াজসহ লাল শাক, কফি, পালনশাক, টমেটো, ছোলারশাক মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকে।নদীর পাড় কর্ষণ করায় ধোঁয়াট এসে ও কোমড়, বাঁধ দিয়ে স্রোত আটকানোর কারনে পলিজমে নব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে যেমন পরিবেশ দুষণ হচ্ছে তেমনি নদীতে পানি না থাকায় বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। পরিবেশ দুষন,দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে নদি দু’টি পূর্ণঃ খনন প্রয়োজন। পুণঃ খনন করে দুই পাড়ের জমি কর্ষণ বন্ধ করলে আবার নব্যতা ফিরে পাবে। সেই সাথে পরিবেশ দুষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পানির বহুমুখি ব্যাবহারসহ দেশীয় মাছের জীব বৈচিত্র রক্ষা করা সম্ভব হবে।  


দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুদীপ্ত সিংহ জানান, মাথাভাঙ্গা নদী খননের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং ভৈরব নদীর খনন কাজ ইতোমধ্যে মেহেরপুর থেকে শুরু হয়েছে।পর্যায় ক্রমে দামুড়হুদায় ও খনন করা হবে। এছাড়া নদীর পাড় কর্ষণ,কোমড় ও বাঁধ দেওয়ার বিষয় তিনি বলেন, কোন নদীতে কোমড় বাঁধ দেওয়া হলে তাদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর পাড় কর্ষণ করলে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।      
দামুড়হুদা উপজেলা মৎস অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযুব আলী জানান, জমি কর্ষণের কারনে ধোঁয়াট এসে পলি জমায় ৮০ভাগ ভরাট হওয়ার কারন। এছাড়াও কোমড় ও বাধেঁর কারনে স্রোত আটকানে২০ভাগ ভরাট হয়ে থাকে। নদীতে পানি না থাকায় থাকায় আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।ঢাল কর্ষণ, কোমড় ও বাধঁ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করে পূনঃ খনন করলে আবার নব্যতা ফিরে পাবে।তেমনি ভাবে মাথাভাঙ্গা নদীতে বৃদ্ধিপাবে দেশীয় প্রজাতীর মাছ।