ডিজিটাল পৌরসভা গড়তে চান গাইবান্ধার মেয়র প্রার্থী মতলুবর

আসন্ন গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় জনমতে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মতলুবর রহমান। এ পৌরসভায় গত মেয়াদে তিনি ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ঢাকাটাইমসকে দেওয়া এক...

ডিজিটাল পৌরসভা গড়তে চান গাইবান্ধার মেয়র প্রার্থী মতলুবর

ডিজিটাল পৌরসভা গড়তে চান গাইবান্ধার মেয়র প্রার্থী মতলুবর

বাংলাদেশ

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা

আসন্ন গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় জনমতে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মতলুবর রহমান। এ পৌরসভায় গত মেয়াদে তিনি ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি ঢাকাটাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পৌরসভার সতন্ত্র এ মেয়র প্রার্থী বলেছেন, ‘জন্মভূমিকে নিয়ে কিছু মানুষের লক্ষ্য এবং স্বপ্ন থাকে। প্রতিনিধিত্ব করা না গেলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আর জনগণের বাইরে থেকে রাজনীতি করে সব কাজ করাও সম্ভব নয়। পৌরসভাকে নিয়ে আমি ছাড়াও হয়তো অনেকে স্বপ্ন দেখেন। যদি আল্লাহ আমাকে আপনাদের সেবা করার দায়িত্ব দেন, তবে আপনাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। আমরা অনেকে বলি আধুনিক, অনেকে বলে ডিজিটাল আবার আলোকিত। কিন্তু আমি বলব, আধুনিক হোক আর ডিজিটাল সবধরনের নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন একটি পৌরসভা আমি গড়তে চাই।’

এদিকে অধিকাংশ পৌর বাসিন্দারা মত প্রকাশ করে বলেছেন, বিগত পাঁচ বছরে মেয়র না হয়েও তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে যেভাবে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এতে করে আমরা বিশ্বাস করি, মতলুবর রহমান গাইবান্ধা পৌরসভাকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবেন। মতলুবর রহমান যদি মেয়র নির্বাচিত হন তবে গাইবান্ধা পৌরবাসীদের জীবনমান অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণেই অধিকাংশ পৌরবাসী তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়।

তবে মতলুবর রহমানের নিন্দুকেরাও থেমে নেই। তার   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করে সাধারণ মানুষের মাঝে তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চলছে বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা। শুধু তাই নয় তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া একটি বক্তব্যকে সুপার এডিট করে বিকৃতভাবে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি আইডি থেকে ছড়িয়ে দিয়ে ভাবমূর্তি নষ্ট ও নির্বাচনে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তবে মতলুবর রহমান সকল বাধাকে জয় করে গাইবান্ধা পৌরসভাকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পৌরসভা গড়ার লক্ষে নির্ভয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পৌর এলাকা ও নাগরিকদের নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছেন মেয়র প্রার্থী মতলুবর রহমান। তিনি নিশ্চিত নাগরিক সব সুবিধা ও একটি আলোকিত পৌরসভা বাস্তবায়নের স্বপ্ন পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থাপনা করেছেন। আর দ্ব্যর্থহীনভাবে গাইবান্ধা পৌরবাসীর উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে পৌরসভাকে ঢেলে সাজানো থেকে শুরু করে আধুনিক ও ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গাইবান্ধা পৌরসভা। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এখনো অপ্রতুল। এখানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। নেই পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জমে হাঁটুপানি। যেখানে সেখানে পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। এখানে শহরবাসীর ক্লান্তি দূর করার জন্য চিত্তবিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। নামমাত্র একটি পৌর পার্ক থাকলেও তা ভ্রাম্যমাণ ফুচকা ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছে।

নারিকেল গাছ প্রতীকের মতলুবর রহমান বলেন, ‘মাদক গাইবান্ধা শহরে বর্তমানে প্রধান সমস্যা। আমি সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি, আগামীতেও থাকব। মাদক পৌর শহরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন মাদকের আখড়া। আর এই মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা আছেন তারা অবৈধ ক্ষমতার জোরে এসব করে যাচ্ছেন। একজন মাদকসেবী বা কারবারি নিজেকে-পরিবারকেসহ সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে। তাই আমি মেয়র হলে মাদক নির্মূলের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখব।’

তিনি বলেন, ‘দুই/তিনটা বিষয়ে আমি কোনদিন থানায় সুপারিশ করিনি, করব না। তা হলো- মাদক নিয়ে কেউ আটক হলে আমি তাদের ব্যাপারে কখনো সুপারিশ করব না, পাশাপাশি নারীঘটিত বিষয়সহ চুরি-ডাকাতির বিষয়েও আমি সুপারিশ করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই প্রিয় শহরটাকে রাতের বেলায় আলোকিত করার জন্য উন্নতমানের লাইটিং ব্যবস্থা করার একটা চিন্তা আমার আছে। ঘাঘট লেকের বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজকে পুনরায় চালু করে তা গতিশীল করা ও ঘাঘট লেকের জায়গা দখলমুক্ত করা। শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা অবস্থা ভাল রাখাসহ একটি পৌর বিদ্যালয় করার পরিকল্পনা আমার আছে।’

মতলুবর রহমান বলেন, ‘প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি হলো গাইবান্ধা পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তারপরও এই পৌরসভার তেমন কোনো মান নেই। ২২ বছর আগের যে পরিস্থিতি ছিল এখনও তাই রয়ে গেছে। পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ হয়তো এখনো অনেকে জানে না প্রথম শ্রেণির পৌরসভার কী মান থাকতে হয়। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমে এখানকার নাগরিকদের উন্নত জীবনমান ব্যবস্থা করব। তারপর রাস্তাঘাট, দোকানপাট, পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নির্ধারিত অবকাঠামের ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করব।’

‘একটা সময় গাইবান্ধা পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার ব্যাপারটা কল্পনাতীত ছিল। অথচ সেই কল্পনা আজ বাস্তব হয়েছে। আমি সেই বাস্তবতাকে একটা নতুন স্বপ্ন নিয়ে আধুনিক ও ডিজিটাল পৌরসভার বাস্তব রূপ দিতেই দৃঢ় পরিকল্পনা করব। আমি জানি, এ পথচলায় অনেক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তবুও আমি আমার পরিকল্পনা থেকে একচুলও বিচ্যুত হব না। বিরোধীপক্ষ বিরোধিতা করবে, সমালোচকরা সমালোচনা করবে, এটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। এসব অল্পকিছু মানুষ নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ পূরণে সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্ত করে থাকে। এ কারণেও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু যে পরিকল্পনা জনগণের স্বার্থে করা হয় তার বাস্তবায়ন আল্লাহ তায়ালার রহমতে হয়ে যায়।’

‘আমাদের পৌরসভায় খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে অটোবাইক রেজিস্ট্রেশন ফি বর্তমানে বিশ হাজার টাকা কিন্তু আমি কথা দিলাম, অটোবাইকের রেজিস্ট্রেশন ফি বিশ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করব এবং অটোচালিত রিকশার রেজিস্ট্রেশন ফি করব এক হাজার টাকায়। পাশাপাশি রাস্তায় সকল অটোবাইক ও অটো রিকশাকে চাঁদা মুক্ত করে দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার কারণে এখানকার নাগরিকদের প্রদেয় কর অবশ্যই হার অনুযায়ী একটা নির্ধারিত মানের হতে হবে। সেজন্য এখানে নাগরিক কর বিবেচনায় এনে নির্ধারন করব। পৌরবাসী যদি সঠিক বুঝে থাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দা হতে পারলে তাদের নাগরিক সুবিধা কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে, তাহলে তারা অযোগ্য কাওকে ওই আসনে নির্বাচিত করবেনা তা আমি বিশ্বাস করি।’

‘আমার মনে হয়, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সুবিধাপ্রাপ্তির বিষয়টা হয়তো পৌরবাসী এখন পর্যন্ত পরিষ্কার ধারণা রাখতে পারছে না। সত্যি হয়তো তা তাদের সাধারণ কল্পনায় বোধগম্য বা উপলব্ধ নয়। তাই আমি গাইবান্ধা পৌরসভার বাসিন্দাদের বাস্তবিক প্রথম শ্রেণির পৌরসভার উন্নত জীবনমানের সুবিধা দিতে চাই। আর সেই স্বাপ্নিক প্রচেষ্টা অচিরেই স্বপ্নের খোলস মুক্ত হয়ে বাস্তবতা পাবে, যদি পৌরবাসী ১৬ তারিখের নির্বাচনে আমাকে মনোনীত করে আর আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে সেই সম্মান দান করেন।’

মতলুবর রহমান আরো বলেন, ‘নাগরিকদের মধ্যে যারা পিছিয়ে থাকা বাস্তুহারা ও নিম্নতম আয়ের, তারা এলাকায় বিক্ষিপ্ত বসবাস করলে একটা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মানসম্পন্ন যোগ্যতা থাকে না। তাই আমি নির্বাচিত হলে গাইবান্ধা পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডকে সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলব। তাছাড়া সর্বসাধারণের জন্য আধুনিক মানের বিপনীবিতান থাকার দরকার। যদিও পৌরসভা সংলগ্ন একটি মার্কেট আছে। এছাড়া আরো একটি আধুনিক বিপনীবিতান ও পৌর হকার্স মার্কেট গড়ে তোলার চিন্তা আছে। গাইবান্ধা হকার্স মার্কেট নিয়ে যে মামলা জটিলতা আছে, তা আইনগতভাবে মোকাবিলা করে হকার্স মার্কেটকে একটি আধুনিক বাজারে রুপান্তরিত করার চিন্তাও আমার আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো কতো কিছুই বলি। ফোর লেন রাস্তা দেব, পাঁচ তলা বাড়ি দেব। কিন্তু আসলে এটা ঠিক না, নাগরিক সুবিধা বলতে যেটা দরকার সেটাই দিতে আমি চেষ্টা করব।’

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হই তবে শহরের সুধীজনদের নিয়ে একটা মাস্টার প্ল্যান করে পৌরসভাকে নতুন করে ঢেলে সাজাবার একটা পরিকল্পনা নেব। বর্তমানে পৌরসভায় কোন ঠিকাদার কাজ করতে চায় না, কারণ কাজের বিল নিয়ে তালবাহানা করা হয়। আমি মনে করি, এই পৌরসভার সবকিছু এখনই পরিবর্তন দরকার। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ করে সবধরনের নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন আধুনিক ও ডিজিটাল একটি পৌরসভা গড়তে চাই। আমি মেয়র নই আপনাদের সেবক হতে চাই।’

(ঢাকাটাইমস/১০জানুয়ারি/পিএল)

© dhakatimes24.com