তিনি বেঁচে আছেন কোটি মানুষের অন্তরে

রিফাত এমিল: ‘১৯৬৫ সালে একবার বাবার বেতনের টাকা থেকে দশ টাকা চুরি করেছিলাম! আমি এমন একটা ভাব নিলাম যেন আমি টাকা চুরি করার প্রশ্নই আসেনা। এটাই সম্ভবত ছিল আমার জীবনের প্রথম অভিনয়।’ ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুব দুরন্ত, অস্থির। এক জায়গায় অনেকক্ষণ থাকত না; আর অনর্গল কথা বলত। কিছুটা বাচাল ধরনের। ছোটবেলায় হতে চাইত তার বাবার …

তিনি বেঁচে আছেন কোটি মানুষের অন্তরে

১৯৬৫ সালে একবার বাবার বেতনের টাকা থেকে দশ টাকা চুরি করেছিলাম! আমি এমন একটা ভাব নিলাম যেন আমি টাকা চুরি করার প্রশ্নই আসেনা। এটাই সম্ভবত ছিল আমার জীবনের প্রথম অভিনয়।’

ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুব দুরন্ত, অস্থির। এক জায়গায় অনেকক্ষণ থাকত না; আর অনর্গল তয়কথা বলত। কিছুটা বাচাল ধরনের। ছোটবেলায় হতে চাইত তার বাবার মতো; আবার অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা ছিল খুব তাই একবার চিন্তা করল বাবুর্চি হওয়া যাক! কিন্তু তা সম্ভব ছিলনা। তার পকেট খরচের চেয়ে সিনেমার টিকেটের দাম বেশি হওয়ায় চিন্তা করল সিনেমা হলের গেট কিপার হওয়া যাক।

১০/১১ বছর বয়সে তার মাথায় এসব চিন্তা ঘুরত! বাবা সরকারী চাকুরী করায় ঘুরে বেড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রেমে পড়েন এক গার্লস স্কুলের শিক্ষিকার উপর। অদ্ভুতুড়ে চিন্তাভাবনা! হাইস্কুল, কলেজ শেষে দেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা আর নিজের ভবঘুরে জীবনের জন্য পাঁচ বছরের গ্যাপ দেওয়ার পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ভর্তি হোন। এম এ পাস করে বের হওয়ার পরে কিছুদিন ব্যবসা আর চাকুরী করার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু সেখানে উৎকোচ দিতে হয়। তাই ফিরে এসেছে অভিনয়ে।

জাবির আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতা থেকে সেলিম আল দীনের সাথে ঢাকায় এসে কাজ করা। কয়েকটা টিভি নাটক; এরপরে ১৯৮৩ সালে সেলিম আল দীনের সিরিয়াল ‘ভাঙ্গনের শব্দ শুনি’ তে গ্রামের মোড়লের চরিত্র অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান। ছিলেন ভোজন রসিক, খেতে খুব পছন্দ করতেন। তিনি মনে করতেন পৃথিবীর বেশীরভাগ সৃষ্টিশীল মানুষ খাদ্যরসিক। খেলাধুলা পছন্দ করতেন খুব। ক্রিকেট প্রিয় ছিল খুব।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ক্রিকেট খেলেছেন বেশ। শচীন টেন্ডুলকার ছিল তার প্রিয় ব্যাটসম্যান আর বাংলাদেশের বাইরে প্রিয় দল ছিল শ্রীলংকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করাতেও রয়েছে তার হাত। তিনি বিশ্বাস করতেন; ‘বন্ধুত্বের কোন বয়স হয়না। সবাই ছেড়ে চলে; কিন্তু বন্ধুরা থেকে যাবে।’

স্টাইল করত নিজের মতো। কখনো শার্ট ইন করা বা গুটিয়ে পড়তেন না। সবসময় সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। টাকার মারপ্যাঁচ বুঝতেন না। তার জন্ম ১৯৫২ সালের ২৯ মে আর প্রস্থান ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। আদতে তার মতো কিংবদন্তীর কী মৃত্যু আছে? তিনি তো বেঁচে থাকবেন তার জন্য টিভিসেটের সামনে বসা কোটি কোটি মানুষের অন্তরে।