দক্ষিণ আফ্রিকায় জানুয়ারিতে ৬ বাংলাদেশিকে হত্যা

জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬ বাংলাদেশি অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে প্রকাশ্যে দোকান থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির ঘটনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এত প্রাণহানির পরও সরাসরি কেউ দায়িত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া করোনাসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতাজনিত কারণে আরও ৩৭ বাংলাদেশি মারা গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ক্লার্সড্রপ শহর সংলগ্ন এলাটন এলাকায় ডাকাতের গুলিতে নজরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সন্ত্রাসীরা ডাকাত করতে দোকানে প্রবেশ করলে বাংলাদেশি নজরুল তাদের বাধা দেয়। এ সময় ডাকাতেরা নজরুলের কপালে তিন রাউন্ড গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। এর একদিন পরেই আরো একজন প্রবীণ বাংলাদেশি ডাকাতের গুলিতে খুন হয়। ৪ জানুয়ারি রাত ২টার সময় ফ্রি স্টেইট প্রদেশের বেলকম শহরের থাবং এলাকায় মর্মান্তিকভাবে খুন হয় আবুল কালাম। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ রাত আনুমানিক ২টার দিকে দোকান ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সময় আবুল কালামকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সোমবার দুপুরে মৃত্যু হয়। কালামের বাড়ি ফেনী জেলা দাগনভূঞা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে। জোহানেসবার্গের নাইজেল এলাকায় ডাকাতদের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি আব্দুল হক। ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে ডাকাতের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান তিনি। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাগনে। ৬ জানুয়ারি দেশটির লেনেসিয়ার সাবেরি চিস্তিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা হয়। ৭ জানুয়ারি মৃত আবদুল হকের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নিরোওয়ারিশপুর, তালো চাঁনপুর গ্রামের আতর আলী পন্ডিত বাড়ির জালাল আহমেদের ছেলে বলে জানা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে আসাদ নামে আরও এক বাংলাদেশি। দেশটির ফ্রি স্টেট প্রদেশের ফেরিনাখান শহরের পাশে ছেবোকিং এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে খুন হন। জানা গেছে, ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে কয়েকজন ডাকাতি করার জন্য আসাদের দোকানে প্রবেশ করলে তার সঙ্গে ডাকাতদের হাতাহাতি হয়। এ সময় ডাকাত দল আসাদকে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করলে আসাদ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ বাংলাদেশির বাড়ি নরসিংদী। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে এক বাংলাদেশিকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম আব্দুল হক (৩০)। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বজরা এলাকায় বলে জানা গেছে। ১৯ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের ব্রিক্সটনে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, নিহত আব্দুল হক কয়েক বছর যাবত ওই এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছিলেন। সকাল ৭টার দিকে কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাকে দোকানের পেছনের দিক থেকে ডেকে নিয়ে যায় পার্শ্ববতী একটি স্কুল মাঠের এককোণে। পরে নির্জন স্থানে তাকে পিটিয়ে এবং ইট দিয়ে মাথা থেতলে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে নিহতের লাশ স্থানীয় পুলিশ নিয়ে যায়। জোহানেসবার্গে বাংলাদেশি দুই ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও মনির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে নিহত হন। মনির আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে সুস্থ হয়েছেন। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ও আহত মনির হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবির হাট উপজেলায়। ২৭ জানুয়ারি রাত ৮টার সময় জোহানেসবার্গের নিউল্যান্ডস এলাকায় মনিরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, জাহাঙ্গীর আলম রাত ৮টার সময় তার ছোট ভাই মনিরকে দেখতে গেলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা একদল সশস্ত্র যুবক মনিরের দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করলে ঘটনাস্থলে জাহাঙ্গীর নিহত হন। ওই সময় মনিরের গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এসে জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় এবং ভাই মনিরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মনির বর্তমানে সুস্থ আছেন। এদিকে ২৯ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে জোহানেসবার্গের লেনেসিয়ায় জামিয়াতুল ওলামায় নিহত বাংলাদেশি জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, জানুয়ারি মাসে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২১ জন, মোজাম্বিকে ৫ জন, লিসোথোয় ২ জন, সোয়াজিল্যান্ডে ৩ জনসহ মোট ৪৩ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জানুয়ারিতে ৬ বাংলাদেশিকে হত্যা

জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬ বাংলাদেশি অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে প্রকাশ্যে দোকান থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করা হয়েছে।

বাকিদের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির ঘটনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এত প্রাণহানির পরও সরাসরি কেউ দায়িত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া করোনাসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতাজনিত কারণে আরও ৩৭ বাংলাদেশি মারা গেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ক্লার্সড্রপ শহর সংলগ্ন এলাটন এলাকায় ডাকাতের গুলিতে নজরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে।

৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সন্ত্রাসীরা ডাকাত করতে দোকানে প্রবেশ করলে বাংলাদেশি নজরুল তাদের বাধা দেয়। এ সময় ডাকাতেরা নজরুলের কপালে তিন রাউন্ড গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

এর একদিন পরেই আরো একজন প্রবীণ বাংলাদেশি ডাকাতের গুলিতে খুন হয়। ৪ জানুয়ারি রাত ২টার সময় ফ্রি স্টেইট প্রদেশের বেলকম শহরের থাবং এলাকায় মর্মান্তিকভাবে খুন হয় আবুল কালাম।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ রাত আনুমানিক ২টার দিকে দোকান ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সময় আবুল কালামকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সোমবার দুপুরে মৃত্যু হয়। কালামের বাড়ি ফেনী জেলা দাগনভূঞা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে।

জোহানেসবার্গের নাইজেল এলাকায় ডাকাতদের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি আব্দুল হক। ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে ডাকাতের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান তিনি। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাগনে।

৬ জানুয়ারি দেশটির লেনেসিয়ার সাবেরি চিস্তিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা হয়। ৭ জানুয়ারি মৃত আবদুল হকের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নিরোওয়ারিশপুর, তালো চাঁনপুর গ্রামের আতর আলী পন্ডিত বাড়ির জালাল আহমেদের ছেলে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে আসাদ নামে আরও এক বাংলাদেশি। দেশটির ফ্রি স্টেট প্রদেশের ফেরিনাখান শহরের পাশে ছেবোকিং এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে খুন হন।

জানা গেছে, ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে কয়েকজন ডাকাতি করার জন্য আসাদের দোকানে প্রবেশ করলে তার সঙ্গে ডাকাতদের হাতাহাতি হয়। এ সময় ডাকাত দল আসাদকে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করলে আসাদ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ বাংলাদেশির বাড়ি নরসিংদী।

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে এক বাংলাদেশিকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম আব্দুল হক (৩০)। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বজরা এলাকায় বলে জানা গেছে।

১৯ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের ব্রিক্সটনে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, নিহত আব্দুল হক কয়েক বছর যাবত ওই এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছিলেন।

সকাল ৭টার দিকে কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাকে দোকানের পেছনের দিক থেকে ডেকে নিয়ে যায় পার্শ্ববতী একটি স্কুল মাঠের এককোণে। পরে নির্জন স্থানে তাকে পিটিয়ে এবং ইট দিয়ে মাথা থেতলে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে নিহতের লাশ স্থানীয় পুলিশ নিয়ে যায়।

জোহানেসবার্গে বাংলাদেশি দুই ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও মনির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে নিহত হন। মনির আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে সুস্থ হয়েছেন। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ও আহত মনির হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবির হাট উপজেলায়।

২৭ জানুয়ারি রাত ৮টার সময় জোহানেসবার্গের নিউল্যান্ডস এলাকায় মনিরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, জাহাঙ্গীর আলম রাত ৮টার সময় তার ছোট ভাই মনিরকে দেখতে গেলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা একদল সশস্ত্র যুবক মনিরের দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করলে ঘটনাস্থলে জাহাঙ্গীর নিহত হন।

ওই সময় মনিরের গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এসে জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় এবং ভাই মনিরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মনির বর্তমানে সুস্থ আছেন।

এদিকে ২৯ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে জোহানেসবার্গের লেনেসিয়ায় জামিয়াতুল ওলামায় নিহত বাংলাদেশি জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও, জানুয়ারি মাসে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২১ জন, মোজাম্বিকে ৫ জন, লিসোথোয় ২ জন, সোয়াজিল্যান্ডে ৩ জনসহ মোট ৪৩ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।