দৌলতপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবাঁধ দুর্নীতি নির্বিঘ্ন করতে রাতের আধাঁরে দৌলতপুর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে অনুমোদিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলাকে।

দৌলতপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশবিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বেসামরিক গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত যাচাই বাছাই এর জন্য সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও একটি কমিটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে দৌলতপুর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার, দৌলতপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলাকে। কাউকে না জানিয়ে শুক্রবার রাতে কেন্দ্র অনুমোদিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলাকে বাদ দিয়ে কাউছার আলী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ওই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাতের আধাঁরে কেন্দ্র অনুমোদিত সভাপতিকে বাঁদ দেওয়া নিয়ে শনিবার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমবেত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হোন এবং বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থবানিজ্যের অভিযোগ তুলে এ কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করার আহব্বান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান জানান, রাতের আধাঁরে কেন্দ্র অনুমোদিত সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলাকে বাদ দেওয়া মানে দৌলতপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যাপক অর্থ বানিজ্য হচ্ছে। ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দৌলতপুরে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির বিতির্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির করার দাবি জানান তিনি।কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটি থেকে বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলা জানান, আমি থাকলে অর্থ বানিজ্য ও দুর্নীতি করা যাবেনা বলে আমাকে ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, এখানে কাগজ কথা বলবে। যার কাগজপত্র সঠিক রয়েছে তাকে বাদ দেওয়ারও সুযোগ নেই আবার যার কাগজপত্র ঠিক নেই তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করারও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এখানে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমার অফিসের কেউ যদি অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গেরিলাকে বাদ যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তিনি জানান।