ধূমপান ছাড়ার উপায়

“ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”, এই আপ্তবাক্যটি সবারই জানা। কিন্তু জানার পরও তা করে থাকি অনেকেই। ধূমপানের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকির বিষয়টি জানার পরেও ধূমপায়ীরা ব্যর্থ হন এ বদভ্যাস থেকে সরে আসতে। যারা একবার কৌতূহলে একটি সিগারেট পান করেছে তাদের অনেকেই পরবর্তীতে পুরোদস্তুর ধূমপায়ী হয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করছেন যারা। বারবার ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন অথচ চেষ্টা করেও ছাড়তে পারছেন না। কিছু নিয়ম মানলে আপনি সহজেই ধূমপান ছাড়তে পারবেন। চলুন ধূমপান ছাড়ার বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু পরামর্শ জানা যাক।

ধূমপান ছাড়ার উপায়

একটি হিসেবে করে দেখুন তো সিগারেট কিংবা তামাকজাত পণ্যের জন্য প্রতি মাসে আপনার কত টাকা খরচ হয়? হিসেব করে দেখলে ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য সহজ হবে। সে টাকা জমিয়ে অন্য খাতে খরচ করতে পারেন। আপনার আশপাশে যারা ধূমপান বর্জন করেছে তাদের অনুসরণ করুন। তাদের স্বাস্থ্যগত কী পরিবর্তন এসেছে সেটি জানার চেষ্টা করুন।

আজই ধূমপান ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করুন। টেবিল কিংবা পকেটে রাখা সিগারেটের প্যাকেট ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলুন। একদিন ধূমপান না করে দেখুন। এরপর পার্থক্য অনুভব করার চেষ্টা করুন। 

এরপর দুই দিন, তিন দিন ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। তাহলে অভ্যাস গড়ে ওঠবে।

- ধূমপান ছাড়ার জন্য প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি। আপনার ইচ্ছাশক্তি যত প্রবল হবে তত তাড়াতাড়ি আপনি ধূমপান ছাড়তে সক্ষম হবেন।

- অনেকেই সিগারেট ছাড়ার কথা ভেবে পকেটে তা রাখেন না। ভাবেন, পকেটে থাকলেই খেতে ইচ্ছে করবে। তবে, অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গে না থাকলে ধূমপান করার ইচ্ছে আরও বেশি হয়। পকেটে সিগারেট না রাখলে দেখা যাবে, আপনি অন্যের কাছ থেকে তা চেয়ে খাচ্ছেন। তাই সিগারেট ও ম্যাচ পকেটেই রাখুন।

- শুধু খেয়াল রাখুন, কোন সময়গুলোতে আপনি সিগারেট ধরান। ধূমপানের ইচ্ছা একেকজনের একেক সময়ে প্রবল হয়। কেউ টেলিফোনে আলাপ করতে করতে, কেউ আলোচনার শুরুতে, কেউ টিভি দেখার সময়, কেউ খাবারের পর, কেউ বা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সিগারেট ধরান। এ সময়গুলোতে অনেকটা নিজের অজান্তেই তা ধরিয়ে ফেলেন অনেকে। যদি ধরিয়েই ফেলেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি এখন সত্যি সত্যি সিগারেট খেতে চান কি না?

- যদি সত্যি সত্যিই সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা হয়, তা হলে অন্যসব কাজ বাদ দিয়ে আরাম করে বসুন। চুপচাপ বসে তা খান। মনোযোগ দিয়ে সিগারেট খান।

- সিগারেট খাওয়ার সময় শরীরের প্রতি মনোযোগ দিন। চোখ বন্ধ করে তাতে টান দিয়ে অবলোকন করুন ধোঁয়া নাক দিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে তা গোখরা সাপের আকার ধারণ করছে। ফুসফুসে গিয়ে ফণা তুলে ছোবল মারছে। আর ঢেলে দিচ্ছে নিকোটিন নামের বিষ। একটা বিষাক্ত সাপ ছোবল মারলে আপনার দেহ-মনে যে অনুভূতি সৃষ্টি হতো ক্ষণিকের জন্য তা করুন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুভূতি না এলে অভিনয় করুন। (মনে করুন, মঞ্চে নাটক করছেন। নাটকে আপনাকে অভিনয় করতে হচ্ছে সাপে আক্রান্ত পথিকের ভূমিকায়। সত্যি সত্যি সাপ ছোবল মারলে আপনার যে মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া হতো, তাই করুন)। মনের চোখে আপনার নাক মুখ গলা হৃৎপিণ্ড পাকস্থলীর প্রতিক্রিয়া অবলোকন করুন। খারাপ হলে চিন্তা করুন।

- পুনরায় সিগারেটে টান দিন। মনে করুন, আরেকটা গোখরা সাপ ফুসফুসের দিকে যাচ্ছে। পূর্বের প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করুন। আবারো খারাপ হলে চিন্তা করুন।

- এই পদ্ধতিতে পুরো সিগারেট শেষ করুন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার যে অনুভূতি হলো তা একটি কাগজ বা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। ঠিক তা ভেবে চিন্তা করুন।

- সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু মনে রাখুন, অন্যের সামনে বা অন্য কোনো কাজ করতে করতে সিগারেট খাবেন না। যখন খেতে ইচ্ছে করবে, অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে নিরিবিলি বসে এই প্রক্রিয়ায় তা খাবেন।

কয়েকদিন এভাবে চালিয়ে গেলে অচিরেই দেখবেন, আপনার দেহ-মন নিজ থেকেই সিগারেট প্রত্যাখ্যান করছে। তাতে টান দিতেই কাশি চলে আসছে। বিস্বাদ লাগছে। সিগারেটের ধোঁয়া গন্ধ লাগতে শুরু করেছে। এভাবে খুব সহজেই ধূমপানের বদভ্যাস থেকে আপনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারবেন।

যে কোনো জায়গায় ধূমপান কর্নার থেকে দূরে থাকুন। আপনার ধূমপায়ী বন্ধুদের সঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে চলুন। যে সময়টিতে আপনার ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে সে সময়ে রাস্তায় হাঁটুন। তাহলে ধূমপানের চাহিদা থাকবে না।

সিগারেট ছাড়ার পর মুখে চুইংগাম কিংবা আদা চিবোতে পারেন। তাহলে ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমে আসবে। ধূমপান বিরোধী এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বই পড়তে পারেন।

কোনোভাবেই কাজ না হলে সর্বশেষ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং এর সহায়তা নিতে পারেন। আপনার কিছু সঠিক সিদ্ধান্তই আপনাকে এনে দেবে সুখ।