পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষতি ৬ হাজার কোটি ডলার

করোনা মহামারির প্রভাবে গত বছরের অধিকাংশ সময়ই বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিধিনিষেধ জারি ছিল। এতে পর্যটকশূন্য অবস্থায় বছর পার করেছে ভ্রমণ গন্তব্যগুলো। এ কারণে ২০২০ সালে উপসাগরীয় ...

পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষতি ৬ হাজার কোটি ডলার
করোনা মহামারির প্রভাবে গত বছরের অধিকাংশ সময়ই বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিধিনিষেধ জারি ছিল। এতে পর্যটকশূন্য অবস্থায় বছর পার করেছে ভ্রমণ গন্তব্যগুলো। এ কারণে ২০২০ সালে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প ৬ হাজার কোটি ডলার হারাতে পারে। 

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, উপসাগরীয় ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের লোকসানের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি থেকে ৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হোটেলগুলোর লোকসান থাকবে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। 

গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা কনসালট্যান্টস ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভানের নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশের জোট উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল বা জিসিসির পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে পর্যটন থেকে ১১ হাজার কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছিল তারা। কিন্তু করোনা মহামারি সব নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে লকডাউনের পর ভ্রমণের জন্য গ্রাহকরা যখন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন, তখন তারা অবশ্যই হোটেলে থাকার বিলাসিতা বেছে নেবেন। তবে তারা তাদের পরিবারের বাইরে অন্য অতিথিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে চাইবেন। এজন্য শিল্পটি নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা মূল বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং নতুনভাবে পরিষেবা সরবরাহে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ভোক্তা অভিজ্ঞতা অনুধাবন এবং প্রতিটি পর্যায়ে নতুনত্ব নিয়ে আসার বিষয়গুলো আগামীতে গুরুত্ব পাবে। দুবাই ধীরে ধীরে পর্যটন খাতের কার্যক্রম চালু করেছে এবং আবুধাবি গত মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। 

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, গত বছরে দীর্ঘ সময় ধরে বেশির ভাগ দেশ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অভ্যন্তরীণ পর্যটক বাড়ছে। এ অঞ্চলের সব হোটেল বায়ো-বাবলের আওতায় ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ পর্যটক গ্রহণ করবে। বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করতে বায়ো-বাবল একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ সরবরাহ করে।

ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভান জানিয়েছে, বর্তমানে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অন্তর্ভুক্ত রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু ডেলিভারিভিত্তিক রেস্তোরাঁ ক্লাউড কিচেনের বৈশ্বিক বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। পর্যটকদের রেস্তোরাঁসহ জনাকীর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে বাসা থেকে অর্ডার করে খাবার নিয়ে আসা নতুন স্বাভাবিক (নিউ নরমাল) চর্চা হতে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে বাসায় খাদ্য সরবরাহকারী কিচেনের সংখ্যা আরো বাড়বে, যারা হয়তো তৃতীয় পক্ষের কোনো ডেলিভারির মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করে দেবে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোয় ঘরের বাইরে খাওয়ার যে রমরমা সংস্কৃতি ছিল, তা সংকুচিত হয়ে যাবে। রেস্টুরেন্টগুলোও তাদের সেবায় অনেক পরিবর্তন আনবে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

ব্রেকিংনিউজ/এম