প্রবাস জীবন আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

কানাডায় প্রবাসীরা ভালো নেই। বাঙালি হিসাবে নিজের কথাই বলি। গত মাসের ডিসেম্বরের ১৩ তারিখে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মা মারা যায়। তার আগেরদিন বাবা মাইনর স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এখন বাড়িতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রায় একমাস হতে চললেও নিজ মাতৃভূমি এবং বাবাকে দেখতে যেতে পারিনি। চরম এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ভার্চুয়ালি বাবা ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি আর ভাবছি, আসলেই প্রবাস জীবন কী আশীর্বাদ না অভিশাপের? স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের কথাই নয়, আমার মতো হাজারো প্রবাসী রয়েছে যাদের অবস্থা আমারই মতো একই রকম। বিশ্ব মহামারি করোনায় প্রবাসীদের জীবন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে স্বজনদের কাছ থেকে। নানা জটিলতায় প্রিয়দের শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশে গিয়ে দেখা করতেও পারছেন না অনেকেই। গত এক বছরে অনেক প্রবাসী এবং বাঙালিদেরকে দিনের পর দিন ধৈর্য ধরে থাকতে হচ্ছে। একদিকে বিমানে ওঠার আগে কানাডা সরকারের ৭২ ঘণ্টার করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটের আল্টিমেটাম অন্যদিকে ভ্রমণের পর এবং কানাডায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু’দেশের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের আল্টিমেটামে বিচলিত প্রবাসী বাঙালিরা। করোনার এই মুহূর্তে অফিসের ছুটি, ছুটির সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন সময়, পরিবার নিয়ে যেতে চাইলে তার খরচ এবং আনুষঙ্গিক অবস্থা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত আর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া হচ্ছে না। অনেকেই করোনাকালে মুঠোফোন আর ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রাখছে প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে। ব্যথিত হৃদয় চিত্তে ভার্চুয়ালি দেখে নিচ্ছে প্রিয় স্বজনদের কখনো বা ঘরে কখনো বা হাসপাতালের বেডে। জীবনের এই চরম বাস্তবতায় দিনযাপন করছে কানাডার প্রবাসী বাঙালিরা। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দু-একজন যে দেশে যাচ্ছে না তা নয়, কিন্তু সেটার সংখ্যা হাতেগোনা। এরমধ্য আরও যোগ হয়েছে বিমান যোগাযোগ ও তার সীমাবদ্ধতা। অন্যদিকে কানাডায় প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি নিজেরাও করোনা আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। তাদের শরীর ও পরবর্তী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেও অনেকে আবার স্বদেশে যাচ্ছেন না। সবকিছু মিলে এ এক অন্যরকম প্রবাসী জীবন যা বাঙালিরা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেনি। স্মৃতির আল্পনা, হারানো প্রিয়জনদের কথা, আর তাদের ছবি দেখেই সময় কাটছে প্রবাসীদের। উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে কানাডায় ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলেও প্রবাসী বাঙালিরা সবাই যে কবে থেকে ভ্যাকসিন পাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তার শেষ নেই। এতকিছুর পরও মানবজীবনের সঞ্জীবনী শক্তি আশা নিয়েই প্রবাসী বাঙালিরা দিন গুনছেন। এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবন আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

কানাডায় প্রবাসীরা ভালো নেই। বাঙালি হিসাবে নিজের কথাই বলি। গত মাসের ডিসেম্বরের ১৩ তারিখে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মা মারা যায়। তার আগেরদিন বাবা মাইনর স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এখন বাড়িতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রায় একমাস হতে চললেও নিজ মাতৃভূমি এবং বাবাকে দেখতে যেতে পারিনি। চরম এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ভার্চুয়ালি বাবা ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি আর ভাবছি, আসলেই প্রবাস জীবন কী আশীর্বাদ না অভিশাপের? স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের কথাই নয়, আমার মতো হাজারো প্রবাসী রয়েছে যাদের অবস্থা আমারই মতো একই রকম।

বিশ্ব মহামারি করোনায় প্রবাসীদের জীবন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে স্বজনদের কাছ থেকে। নানা জটিলতায় প্রিয়দের শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশে গিয়ে দেখা করতেও পারছেন না অনেকেই। গত এক বছরে অনেক প্রবাসী এবং বাঙালিদেরকে দিনের পর দিন ধৈর্য ধরে থাকতে হচ্ছে।

একদিকে বিমানে ওঠার আগে কানাডা সরকারের ৭২ ঘণ্টার করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটের আল্টিমেটাম অন্যদিকে ভ্রমণের পর এবং কানাডায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু’দেশের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের আল্টিমেটামে বিচলিত প্রবাসী বাঙালিরা।

করোনার এই মুহূর্তে অফিসের ছুটি, ছুটির সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন সময়, পরিবার নিয়ে যেতে চাইলে তার খরচ এবং আনুষঙ্গিক অবস্থা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত আর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া হচ্ছে না।

অনেকেই করোনাকালে মুঠোফোন আর ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রাখছে প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে। ব্যথিত হৃদয় চিত্তে ভার্চুয়ালি দেখে নিচ্ছে প্রিয় স্বজনদের কখনো বা ঘরে কখনো বা হাসপাতালের বেডে।

জীবনের এই চরম বাস্তবতায় দিনযাপন করছে কানাডার প্রবাসী বাঙালিরা। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দু-একজন যে দেশে যাচ্ছে না তা নয়, কিন্তু সেটার সংখ্যা হাতেগোনা। এরমধ্য আরও যোগ হয়েছে বিমান যোগাযোগ ও তার সীমাবদ্ধতা।

অন্যদিকে কানাডায় প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি নিজেরাও করোনা আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। তাদের শরীর ও পরবর্তী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেও অনেকে আবার স্বদেশে যাচ্ছেন না। সবকিছু মিলে এ এক অন্যরকম প্রবাসী জীবন যা বাঙালিরা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেনি। স্মৃতির আল্পনা, হারানো প্রিয়জনদের কথা, আর তাদের ছবি দেখেই সময় কাটছে প্রবাসীদের।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে কানাডায় ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলেও প্রবাসী বাঙালিরা সবাই যে কবে থেকে ভ্যাকসিন পাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তার শেষ নেই। এতকিছুর পরও মানবজীবনের সঞ্জীবনী শক্তি আশা নিয়েই প্রবাসী বাঙালিরা দিন গুনছেন।