ফাইজারের টিকা নিয়েও করোনায় আক্রান্ত ২৪০ ইসরায়েলি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যখন বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব, তখন টিকা আবিষ্কার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পায় বিশ্ববাসী। এরই মধ্যে বাজারে এসেছে ফাইজার ও মডার্নার টিকা। টিকা দুটি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওইসব দেশে চলছে টিকাপ্রদানও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ফাইজারের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

ফাইজারের টিকা নিয়েও করোনায় আক্রান্ত ২৪০ ইসরায়েলি

অন্যান্য দেশের মতো ইসরায়েলও নিজেদের নাগরিকদের ফাইজার-বায়োনটেকের উদ্ভাবিত টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। তবে ওই টিকা নেওয়ার নতুন করে ২৪০ জন ইসরায়েলি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রুশ গণমাধ্যম আরটি  টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।

চ্যানেলে -১৩ এর তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশে টিকা নেওয়া সত্বেও এ পর্যন্ত ২৪০ জন কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার ক’দিনের মধ্যেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে না, এমনটি বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়ম অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা নিতে হবে।

ইনজেকশন নেওয়ার পর প্রায় এক হাজার লোকের মধ্যে হালকা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং জ্বর আসা। ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ফোলাভাব এবং লাল হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এদের মধ্যে ক’জনকে কিছুদিন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

এক সমীক্ষায় জানা গেছে, এই ভ্যাকসিন করোনার সংক্রমণ রোধে প্রথম ইনজেকশনের আট থেকে দশ দিন পর ইমিউনিটি বাড়তে থাকে। প্রথম ডোজে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। এই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ ২১ দিনের মাথায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সাত দিন পর ৯৫ শতাংশ কোভিড রোধে কার্যকর বলেও দাবি বিশেষজ্ঞদের। যদিও ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫ শতাংশ থেকে যায়।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, কোভিড-টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক হতে হবে। ভ্যাকসিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর কোভিড-১৯ এর নিয়ম কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গেল বছরের ২০ ডিসেম্বর ইহুদি রাষ্ট্রটিতে গণহারে করোনা টিকাদান কর্মসূচিটি চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষকে জরুরিভিত্তিতে ফাইজারের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। যা দেশটির জনসংখ্যার ১২ শতাংশ মানুষ। অক্সফোর্ডের টিকাও দ্রুত ইসরায়েলে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন