ববি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিক গ্রেফতার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- এমকে পরিবহনের সুপারভাইজার আবুল বাশার রনি (২৫) ও সাউথ বেঙ্গল পরিবহনের হেলপার মো. ফিরোজ (২৪)। তারা দু’জনই নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া কোতয়ালি থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি মেসে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহসিন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। তবে গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষা পেতে আত্মগোপন করেন হামলাকারীরা। এ কারণে তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হচ্ছিল না পুলিশ।’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আবুল বাশার রনি ও মো. ফিরোজ রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে আত্মগোপন করেছেন। এরপর সেখানে অভিযান চালানো হয় রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে পার্কিং করে রাখা প্রায় অর্ধ শতাধিক বাসে তল্লাশি চালানো হয়। রাত দেড়টার দিকে তাদের দুইজনকে একটি বাসের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়।’ ওসি নুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আবুল বাশার রনি ও মো. ফিরোজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা ছাড়াও হামলার ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক জড়িত রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ এদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে একই সড়কে মশাল মিছিল বের করেন। রাত সাড়ে ৭ টার দিকে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তিন দফা দাবি আদায়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে আরও দুই দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী রক্তিম হাসান অমিতসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি মেসে হামলা চালানো হয়। হামলা বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা নেতৃত্ব দেন। এসময় শিক্ষার্থীদের থেকে মানিব্যাগ ও বিভিন্ন দামি মালামাল ছিনিয়ে নেয়া হয়। হামলায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখনো ৩-৪ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ওই দিন রাত দেড়টা থেকে আন্দোলন শুরু করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনদফা দাবি পূরণের শর্তে ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা ধারাসহ গুরুত্বপূর্ণ ধারা উল্লেখ করে মামলা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার, হামলার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের গাফিলতি ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা এবং অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিধানে পদক্ষেপ নেয়া। শিক্ষার্থীদের ওই দাবি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশাল নগরীর রূপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে অভিযুক্ত বিআরটিসি বাস কাউন্টারের লাইনম্যান মো. রফিককে আটক করা হলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনার জের ধরে মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি মেসে হামলা করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সাইফ আমীন/ইএ

ববি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিক গ্রেফতার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- এমকে পরিবহনের সুপারভাইজার আবুল বাশার রনি (২৫) ও সাউথ বেঙ্গল পরিবহনের হেলপার মো. ফিরোজ (২৪)। তারা দু’জনই নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাউজিং এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া কোতয়ালি থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি মেসে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহসিন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। তবে গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষা পেতে আত্মগোপন করেন হামলাকারীরা। এ কারণে তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হচ্ছিল না পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আবুল বাশার রনি ও মো. ফিরোজ রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে আত্মগোপন করেছেন। এরপর সেখানে অভিযান চালানো হয় রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে পার্কিং করে রাখা প্রায় অর্ধ শতাধিক বাসে তল্লাশি চালানো হয়। রাত দেড়টার দিকে তাদের দুইজনকে একটি বাসের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়।’

ওসি নুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আবুল বাশার রনি ও মো. ফিরোজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা ছাড়াও হামলার ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক জড়িত রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে একই সড়কে মশাল মিছিল বের করেন। রাত সাড়ে ৭ টার দিকে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তিন দফা দাবি আদায়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে আরও দুই দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী রক্তিম হাসান অমিতসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি মেসে হামলা চালানো হয়। হামলা বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা নেতৃত্ব দেন। এসময় শিক্ষার্থীদের থেকে মানিব্যাগ ও বিভিন্ন দামি মালামাল ছিনিয়ে নেয়া হয়। হামলায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখনো ৩-৪ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ওই দিন রাত দেড়টা থেকে আন্দোলন শুরু করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনদফা দাবি পূরণের শর্তে ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা ধারাসহ গুরুত্বপূর্ণ ধারা উল্লেখ করে মামলা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার, হামলার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের গাফিলতি ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা এবং অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিধানে পদক্ষেপ নেয়া। শিক্ষার্থীদের ওই দাবি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশাল নগরীর রূপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে অভিযুক্ত বিআরটিসি বাস কাউন্টারের লাইনম্যান মো. রফিককে আটক করা হলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনার জের ধরে মধ্যরাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি মেসে হামলা করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

সাইফ আমীন/ইএ