বিজেপির সংস্কৃতিই বহিরাগত, দাবি মমতার

বিজেপি বাংলার সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপড়েনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘‘পুদুচেরি থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত সেই চেষ্টা চালাচ্ছে।’’

বিজেপির সংস্কৃতিই বহিরাগত, দাবি মমতার
ছবি: পিটিআই

দু’দিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সোমবার বীরভূমে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বোলপুরে এ দিন দুপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। তার পরে সাংবাদিক বৈঠকে এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁর তোলা ‘বহিরাগত’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘ওরা (বিজেপি) যে তত্ত্ব ছড়াচ্ছে, সেটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা মনে করি, এটা বহিরাগত চিন্তাধারা।’’ এই অভিযোগ খারিজ করে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনা সর্বগ্রাসী মনোভাব, হতাশার প্রতিফলন। পৌষের বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর জনসম্মোহিনী ভাষণই তাঁর গাত্রদাহের কারণ।’

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ চর্চার কেন্দ্রে আছেন। ইদানিং সেই আলোচনায় লেগেছে রাজনীতির রঙও। শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার মতো একাধিক সিদ্ধান্তে যেমন রাজ্য সরকার আপত্তি করেছে, তেমনই তার জন্য বিজেপির দিকে আঙুল তুলে পথে নেমে তরজায় জড়িয়েছে শাসক দল তৃণমূলও। এই প্রেক্ষাপটেই বিজেপিকে নিশানা করে মমতা এ দিন বলেন, ‘‘রবীন্দ্র- সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে, বিদ্যাসাগরকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতাজির সমস্ত ফাইল দেখানোর কথা (কেন্দ্রের) ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, তাঁর মৃত্যুদিন জানার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে সব কিছু হয়নি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা ভারতবর্ষ তথা বাংলার সাংস্কৃতিক পীঠস্থানগুলির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছে।’’

বিজেপিকে আক্রমণে করে ইদানিং ‘বহিরাগত’ তত্ত্বও সামনে এনেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী নিজেই একাধিক বার বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে ‘বহিরাগত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার ব্যাখ্যা দিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা দেশের লোককে বহিরাগত বলি না। সবাই সব রাজ্যে যেতে পারি। সারা বিশ্বে আমরা ঘুরতে পারি। কিন্তু ইদানিং বিজেপি একটা চিন্তাধারা নিয়েছে, বাংলার সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ডকে ভেঙে দাও, বাংলার যে আত্ম-অহঙ্কার ভেঙে দাও।’’ সেই সঙ্গেই মমতার অভিযোগ, ‘‘বিজেপি বাংলার ইতিহাস  ভুলিয়ে দিতে চাইছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নস্যাৎ করতে চাইছে দাঙ্গায়।’’

 চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শান্তিনিকেতন ঘুরে বোলপুরে বিজেপির একটি রোড শো-এ অংশ নিয়েছিলেন। আজ, মঙ্গলবার শহরে রোড শো করার কথা রয়েছে তৃণমূল নেত্রীর। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের এই কর্মসূচিতেই এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জারকে বার্তা দিতে চাইছেন মমতা। তাঁর ‘রোড শো’ কি বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষেই? উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি বাঙালি-অবাঙালি করি না। আমি সব ধর্ম, সব জাতি, সব সম্প্রদায়কে নিয়ে চলতে পারি। সেটাই মা-বাবা শিখিয়েছেন।

সুত্রঃ আনন্দ বাজার