ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো ৩০টি অজগর, এরপর...

তখনও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা। ঠিক এমন সময় কোনও এক যাত্রীর ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো প্রায় ৩০টি অজগর সাপ। জানা যায়, পাচারকারীরা পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রির জন্য এই ...

ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো ৩০টি অজগর, এরপর...

তখনও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা। ঠিক এমন সময় কোনও এক যাত্রীর ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো প্রায় ৩০টি অজগর সাপ। জানা যায়, পাচারকারীরা পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রির জন্য এই অজগরগুলো নিয়ে এসেছিল।

গেল বুধবার ভারতের শিয়ালদহ রেলস্টেশনে এমন ভীতি ছড়ানো ঘটনা ঘটেছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারকারী সুলতান ভারতের খিদিরপুরের বাসিন্দা। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর আগেই সাপগুলোসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ওইদিনই গ্রেফতার করে আদালতে নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এই পাচারকারীকে।

শিয়ালদহ রেল পুলিশ সুপার বি ভি চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘ এক্সপ্রেসে সাপগুলোকে আসাম থেকে কলকাতায় পাচার করা হচ্ছিল। শিয়ালদহ স্টেশনে পুলিশ তল্লাশি করে ব্যাগ থেকে ৩৩টি অজগর সাপ উদ্ধার করে। দীর্ঘক্ষণ ব্যাগে থাকায় ৩টি সাপ মারা যায়। জীবিত ৩০টি অজগরকে আলিপুর চিড়িয়াখানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

স্থানীয় পুলিশ কমিশনার নাসিম আখতার জানান, ট্রেকিং ব্যাগে বালিশের খোলের মধ্যে ২ থেকে ৩টি করে সাপ আনা হচ্ছিল। বাচ্চা সাপগুলো দুই থেকে আড়াই ফুট হয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা শিয়ালদহ আসার পর সন্দেহজনক পাচারকারীকে ধরে ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে সাপ। স্টেশনে থাকা যাত্রীরা তখন ভয় পেয়ে যান।

বন কমকর্তাদের ধারণা, আসাম কিংবা উত্তরবঙ্গের জঙ্গল থেকে সাপগুলো সংগ্রহ করে কলকাতায় পাচার করা হচ্ছিল। 

অজগর সাপ সাধারণত ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা হয়। টাকাওয়ালা লোকেরা শখ করে বাড়িতে এই সাপ পুষে থাকেন। দেশে-বিদেশেও চড়া দামে অজগর সাপ পাচার হয়। 

কলকাতায় কোথায় কাদের কাছে সাপগুলোকে পাচার করা হচ্ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাচারচক্রটিকে ধরতে সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।