মাধুরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে পলাতক নেহা গ্রেফতার ও ৫ দিনের রিমান্ড

সজীব আকবর, ঢাকাঃ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস অব বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী ফারাহ মাধুরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের মামলায় ওই শিক্ষার্থীর পলাতক বান্ধবী নেহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৩০ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর উত্তরায় যে মদের পার্টি হয় তার আয়োজকও ছিলেন নেহা ও আরাফাত। এছাড়াও তারা অভিজাত এলাকায় পার্টির আয়োজন করে ডিজে পার্টি করতো। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকার আজিমপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নেহাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বান্ধবী ফারজানা জামান নেহার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মাধুরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে পলাতক নেহা গ্রেফতার ও ৫ দিনের রিমান্ড

রাত পৌনে ২টায় মোহাম্মদপুর থানায় সংবাদ সম্মেলনে করে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ এসব তথ্য জানান।

হারুন- অর-রশীদ বলেন, ‘নেহাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। আসলে কী ঘটেছিল তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আজ শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ডিসি হারুন বলেন, ‘নেহা ও আরাফাত ওইদিন রাতে পার্টির আয়োজন করে। সেখানে বিষাক্ত মদপানেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওরা নিয়মিত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পার্টির আয়োজন করত এবং নাচত বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।’

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউল্যাবের ওই নারী শিক্ষার্থী তার বয়ফ্রেন্ড মর্তুজা রায়হান চৌধুরীসহ পাঁচজন উত্তরার 'ব্যাম্বু সুট’ রেস্টুরেন্টে যায় এবং মদপান করে। এসময় নেহা নামে তাদের এক বান্ধবী মদপানে অসুস্থ হয়ে পরলে সে (নেহা) ও তার বন্ধুকে উবারে তুলে দেওয়া হয়। রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় ইউল্যাবের ওই নারী শিক্ষার্থীও অসুস্থতা বোধ করে। পরে তাকে নিয়ে আসা হয় তাফসির নামে মোহাম্মদপুর এলাকায় তাদের এক বন্ধুর বাসায়। যেটি ছিল মোহাম্মাদীয়া হোমস লিমিটেডের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে। 

পরের দিন (২৯ ডিসেম্বর) ওই বন্ধুর বাসায় থাকাকালে ইউল্যাব শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে তার বয়ফ্রেন্ড মর্তুজা রায়হান। এতে সে আরো অসুস্থতা বোধ করলে গভীর রাতে তাকে প্রথমে নেওয়া হয় কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে। 

সেখানে লাইফ সার্পোটের ব্যবস্থা না থাকায় নেওয়া হয় ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দুপুরে মৃত্যু হয় ইউল্যাবের ওই নারী শিক্ষার্থীর।

৩০ জানুয়ারি ওই নারী শিক্ষার্থীর অসুস্থতার কথা পরিবারকে জানায় তার বয়ফ্রেন্ড রায়হান। এসময় তার বাবা (ইউল্যাব শিক্ষার্থীর) চট্টগ্রাম থেকে আসেন এবং মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। সেসময় ওই নারী শিক্ষার্থী আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে মামলার এজাহারে থাকা তিন নম্বর আসামি আরাফাত মামলার আগের দিন (৩০ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং অনেক গোপনীয়তার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। যা পুলিশ রবিবার বিকালে জানতে পারে।

আজ শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড  আদেশ দেন। এর আগে, আসামি নেহাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. সাজেদুল হক তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি শাফায়াত জামিল জামিন চেয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া গত ৩১ জানুয়ারি এ মামলায় ভুক্তভোগীর দুই বন্ধু মুর্তুজা রায়হান চৌধুরি ও নুহাত আলম তাফসীর পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।