মানবতাবিরোধী অপরাধ; তিনজনের আমৃত্যু, ৫ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার ৯ রাজাকারের মধ্যে আটজনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও পাঁচজনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ; তিনজনের আমৃত্যু, ৫ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল। পরে চলতি মাসের ৯ তারিখে রায়ের জন্য এদিন ঠিক করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়ার মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু ওরফে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর করোনা ভাইরাস মহামারির বছরে কোনো রায় আসেনি ট্রাইব্যুনাল থেকে।

ময়মনসিংহের নয়জনের এ মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, জাহিদ ইমাম ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি জানান, এ মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করেছিলেন আদালত। 

২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে চারজনকে হত্যা, নয়জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রাম এলাকায় তারা এসব অপরাধ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।