যদুপুরের শাকিব হত্যা, ৪ অপহরনকারী আটক, হত্যা রহস্য উন্মোচন

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের এক সপ্তাহ পর সাকিব হাসান (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার যদুপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।

যদুপুরের শাকিব হত্যা, ৪ অপহরনকারী আটক, হত্যা রহস্য উন্মোচন

 নিহত সাকিব হাসান উপজেলার যদুপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।সেই সাথে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তঃজেলা অপহরনকারী চক্রের মুল হোতাসহ হত্যাকারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে দর্শনা থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার কামিরহাট ক্যানেল পাড়ার কুদ্দুস মন্ডল এর ছেলে রাজিব মন্ডল (২৪), যশোর জেলার শার্শা থানার উলাশী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে আকাশ (২৫) একই গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শোয়েব (১৯) ও যদুপুর গ্রামের আক্রাম বকাউলের ছেলে ইদ্রিস আলী(৪৫)। 

নিহত সাকিব হাসানঃ ফাইল ছবি 

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাব্বুর রহমান জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সাকিব। এরপর ২০ ডিসেম্বর দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা। ডাইরির সূত্র ধরে অপহৃত সাকিবকে উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। পুলিশ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে শনিবার দুপুরে যদুপুর গ্রামের একটি আমবাগানের ভেতর থেকে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। নিহত সাকিবের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।  শাকিবের মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে যশোর শার্শা থানা এলাকা হতে অপহরনের সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ রাজিব মন্ডল (২৪), আকাশ (২৫) একই গ্রামের শোয়েব (১৯) কে গ্রেফতার করেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে অপহৃত শাকিব এর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক শিকারোক্তিতে পুলিশকে জানায় শাকিবকে তারা অপহরন করে ঢাকার টঙ্গী এলাকাতে নিয়ে রেখেছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে দর্শনা থানা পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই আহাম্মেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে গিয়ে শাকিবের কোন সন্ধান না পেলে গ্রেফতারকৃত আসামী রাজিব পুলিশকে জানায় শাকিবকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের নিকট  তাদের জবানবন্দিতে আরোও জানায়, অপহরনের ২ঘন্টা পর ঐ রাতেই শাকিবকে কোমলপানীয়র সাথে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করিয়ে অজ্ঞান করে তারই পরিহিত গেঞ্জি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে যদুপুর গ্রামের নতুন মসজিদের অদুরের উক্ত আম বাগানের মধ্যে কেটে নেয়া গাছের গর্তে ফেলে আমের শুকনো পাতা ও খড়ি দিয়ে লাশ ঢেকে রেখেছে, তাৎক্ষনিক দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত যদপুর গ্রামের সঙ্গীয় ফোর্স সহ ছুটে যায় দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল, ওসি তদন্ত শেখ মাহবুর রহমান। একই সাথে ঘটনাস্থলে পৌছায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সার্কেল) আবু রাসেল এবং সেখান থেকে শাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। একই সময় অপহরনকারী ও হত্যাকারীদের নিজ বাড়ীতে আশ্রয় দেওয়ায় পুলিশ সুমনের পিতা সিদ্দিক (৪৫)কে আটক করে। নিহতের মা শেফালী বেগম জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কৌশলে সাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় অপহরণ চক্রের সদস্যরা। এর পরদিন তার কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন তিনি দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।