যে আমলে অভাব দূর হয়

এ জীবনে সবাই সফল হতে চায়। জীবনকে সুখময় করতে কত কিছুই না করে। কিন্তু ক’জনের জীবনে সফলতা আসে? বরং দেখা যায় সামান্য পরিশ্রমে কারো জীবন বদলে যায়। সফলতা আসে তার জীবনে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমেও অনেকের অভাব দূর হয় না। সুখ-দুঃখ, সবই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। তিনিই দান করতে পারেন সফলতা। দূর করতে পারেন অভাব-অনটন। তাই আমাদের আল্লাহ ও তাঁর প্রিয়নবী সা:-এর বাতলানো কিছু আমল করতে হবে। আল্লাহ চাহে তো, এতে সঙ্কীর্ণতা কেটে যাবে। ফিরে আসবে সচ্ছলতা।

যে আমলে অভাব দূর হয়

প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দিন। ইনশাআল্লাহ, পূর্ণ ঈমান-একিনের সাথে নিয়মিত আমল করলে অভাব থাকবে না।এমন জায়গা থেকে আপনার প্রয়োজন পুরণ হবে; আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. এর মৃত্যুর সময়ের ঘটনা, তিনি যখন অসুস্থ হলেন(আর এ রোগেই তার মৃত্যু হয়), তখন হযরত উসমান রাযি. তার নিকট আগমন করে জিজ্ঞেস করেন,

আপনার কি কষ্ট?
তিনি বললেন- আমার গুনাহ(অর্থাৎ গুনাহের চিন্তাই কষ্টের কারণ)
ওসমান রাযি. পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন- কোনকিছুর আকাঙ্ক্ষা আছে?
তিনি বললেন- শুধু আমার প্রতিপালকের রহমতের।
ওসমান রাযি. প্রশ্ন করলেন- আপনার জন্য কোন চিকিৎসাের ব্যবস্থা করবো কি?
তিনি জবাব দিলেন- চিকিৎসক নিজেই তো আমাকে অসুস্থ করেছেন।
হযরত ওসমান রাযি. পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন- আপনার জন্য কিছু অর্থ-সম্পদের ব্যবস্থা করবো কি?
তিনি জবাব দিলেন- এর আমার কেন প্রয়েজন নাই।
ওসমান রাযি. বললেন- আপনার পরে অর্থ-সম্পদ আপনার কন্যাগণের কাজে লাগবে।
তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বললেন-
আপনি কি আমার কন্যাদের অভাবগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করেন, অথচ আমি তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, তারা যেন প্রত্যেক রাতে সূরা ওয়াকেয়াহ তেলাওয়াত করে। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রবণ করেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক সূরা ওয়াকেয়াহ তেলাওয়াত করে, সে কখনো অভাবগ্রস্থ হবে না।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, হুজুর সা. এরশাদ করেছেন- তোমরা সূরা ওয়াকেয়াহ পাঠ করো, এবং তোমাদের সন্তানদের  তা শেখাও। এটি হলো “সুরাতুল গেনা”(প্রাচুর্যের সূরা)।

সূরা ওয়াকেয়াহ, খুব লম্বা কোন সূরা নয়, পৃষ্ঠার হিসেব করলে মাত্র ৩পৃষ্ঠা। আর ছোট ছোট আয়াতে মাত্র ৯৬আয়াত। পড়তে লম্বা সময়ের প্রয়োজন হয় না। যাদের মুখস্থ, তারা মসজিদ থেকে ঘরে যেতে যেতে পরে নিতে পারবেন। তা ছাড়া, সবারই এখন স্মার্টফোন আছে, একটা কোরআন শরিফের এ্যাপস রাখতে পারি। কাজে আসবে, ফায়দা থেকে খালি যাবো না ইনশাআল্লাহ।

তাফসিরে নূরুল কোনআনে আছে- যদি কোন ব্যক্তি একই মজলিসে ৪১বার সূরা ওয়াকেয়াহ পাঠ করে, তবে তার আর্থিক প্রয়োজনের আয়োজন হবে।

হাদিস শরিফে প্রিয়নবী সা: ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে যাবতীয় বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিবেন এবং তাকে অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিক দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৫১৮)

আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখা। হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, আমি প্রিয়নবী সা:-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার জীবিকা প্রশস্ত করতে চায় এবং বাড়াতে চায় তার আয়ু সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (বুখারি : ৫৯৮৫)

নেয়ামতের শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করা। শুকরিয়ার ফলে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সূরা ইবরাহিম : ০৭)