যে বাঁচিয়ে চলছে কোটি মানুষের প্রাণ

একজন নারী বাঁচিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি কোটি মানুষের প্রাণ। হয়ত বাঁচিয়ে দিবে আপনার খুব কাছের অথবা আপনার জীবন। অথচ তাকে আমরা কেউ চিনি না। চেনার প্রয়োজনও মনে করিনাই।

যে বাঁচিয়ে চলছে কোটি মানুষের প্রাণ

একজন নারী বাঁচিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি কোটি মানুষের প্রাণ। হয়ত বাঁচিয়ে দিবে আপনার খুব কাছের অথবা আপনার জীবন। অথচ তাকে আমরা কেউ চিনি না। চেনার প্রয়োজনও মনে করিনাই। কারণ তিনি কোটি ফলোয়ারওয়ালা কোন মিডিয়া স্টার নন, তিনি ইন্সটায় আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট দেন না। তিনি নীরবে কোটি কোটি জীবন বাঁচান। মানুষের জীবন।

গতকয়েক মাসে করোনা একটা জিনিস ভালমতো শিখিয়েছে মিডিয়া স্টার, সুপার হিরো, হিরোইন, হায়েস্ট পেইড খেলোয়াড়, রাজনৈতিক বড় ভাই, বিজনেস গুরু, ওয়াজ আইকন এদের কেউই অতি প্রয়োজনে জীবনে কোন কাজেই আসে না। জীবন বাঁচাতে আমাদের সর্বস্তরের সবাইকে তাকিয়ে থাকতে হয় বিজ্ঞানের প্রতি।

করোনা নিয়ে সমগ্র দুনিয়া যখন তোলপাড়, লক্ষ লক্ষ মানুষের অসহায় মৃত্যু যখন অবধারিত নিয়তি ঠিক তখন দুনিয়ার এক প্রান্তের ছোট্ট একটা ল্যাব্রটরিতে করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করছিল একদল বিজ্ঞানী।

বিশ্বকে অবাক করে অতি অল্প সময়ে ভ্যাকসিন চলে এসেছে। ইতিমধ্যে কোটি মানুষ গ্রহণ করেছে করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন। আগামী কয়েক মাসে দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে।

দেশে যে ভ্যাকসিন আসবে বলে অধীর আগ্রহে আমরাও অপেক্ষায় সেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন তৈরির পিছনে প্রধান যে ব্যাক্তিটি কাজ করেছে তার নাম সারাহ গিলবার্ট। হ্যাঁ তিনি একজন নারী। একজন মা। এই একজন নারী বাঁচিয়ে দিচ্ছে কোটি কোটি মানুষের জীবন।

বাবা ছিলেন জুতোর দোকানের কারিগর, মা স্কুল শিক্ষিকা। লাজুক স্বভাবের সারাহ কক্ষনো ক্যামেরার সামনে আসতে চাইত না। অক্সফোর্ডে কাজ করতে গিয়ে ম্যালারিয়ার জেনেটিক্স নিয়ে আগ্রহ পরিবর্তীতে ম্যালারিয়া ভ্যাকসিন তৈরিতে অংশগ্রহণ।

কাজের একপর্যায়ে ইবলা সার্স ভাইরাস নিয়ে তিনি ও তার দল কাজ করছিল আজ থেকে কয়েক বছর আগে। ইবলা হঠাত এসে হঠাৎ চলে গিয়েছিল কিন্তু সারাহ তাদের গবেষণা থামায়নি।

চিনের উহানে করোনা সংবাদে সারাহ প্রথম উপলব্ধি করে এই মরনঘাতী ভাইরাসের টিকা তৈরির কৌশল তিনি জানেন কারণ করোনা সার্স একই ফ্যামিলির।

উহান থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ল গোটা দুনিয়ায়। শত থেকে হাজার, হাজার থেকে লাখ লাক্ষা মানুষ মারা যেতে আরম্ভ করল। দুনিয়া হয়ে গেল লকডাউন।

সারাহ গিলবার্ট তাদের কাজ থামাল না। রাত দিন তারা কাজ করে গেল। গত বছর এপ্রিলেই করোনা সংক্রমণের চার মাসের মাথায় তার দল বানিয়ে ফেলল করোনার টিকা!

এরপর ট্রায়াল। ফেইস ওয়ান টু থ্রি সবগুলো ট্রায়ালে দুর্দান্ত রেজাল্ট এলো। করোনা প্রতিরোধে আশি থেকে নব্বই শতাংশ কার্যকর সারাহ গিলবার্টের ডিজাইন কৃত অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিন।

সারাহ গিলবার্টদের টিকা গ্রহণ করছে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ। কিন্তু কি আশ্চর্য কেউ তাকে প্রশ্ন করেনি মেয়ে হয়ে সে কেন সারারাত ল্যাব্রটরিতে কাজ করে? টিকা বানালে ঘরে রান্না করবে কে? কয়টা বিয়ে করছে? বাচ্চা কয়টা? পুরুষ সহকর্মীর সাথে এতো কিসের ফুসুরফাসুর? পর্দা কই?

সারাহ গিলবার্টের বানানো টীকা গ্রহণ করছে গোটা বিশ্ব।জাত পাত ধর্ম বর্ণ সকলে। বিনা প্রশ্নে।

বিশ্বের কাছে সারাহ গিলবার্ট একজন প্রফেসর। সারাহ গিলবার্ট একজন ভ্যাকসিন স্পেশালিষ্ট। সারাহ গিলবার্ট একজন নারী। সারাহ গিলবার্ট একজন মা, সারাহ গিলবার্ট বাঁচাচ্ছে কোটি কোটি কোটি মানুষের জীবন।