রাজধানীতে জাল টাকা তৈরি চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর আশুলিয়া থেকে জাল টাকা তৈরি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। এ সময় জাল টাকা তৈরির কাজে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ ১ লাখ ৪৪ হাজার ...

রাজধানীতে জাল টাকা তৈরি চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
রাজধানীর আশুলিয়া থেকে জাল টাকা তৈরি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। এ সময় জাল টাকা তৈরির কাজে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ জাল টাকাও জব্দ করেছে র‌্যাব। 

গ্রেফতারকৃতররা হলে- মিজানুর রহমান (৩৯) ও রেজাউল ইসলাম (৩৬)। এদের মধ্যে মাদক মামলায় আগে এক বছর কারাভোগ করেছেন মিজানুর। তবে জামিনে বেরিয়েই জড়িয়ে পড়েন জাল টাকা কারবারে। রেজাউল এ প্রতারণার কারবারে সহযোগী হিসেবে ছিলেন। 

রবিবার (১০ জানুয়ারি) র‌্যাব-১ এর সহকারি পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মুশফিকুর রহমান তুষার জানান, সম্প্রতি জাল টাকা তৈরির সাথে বেশ কয়েকটি চক্র জড়িত আছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। 

বাংলাদেশের আর্থিক চাকাকে অচল করতে এবং সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে বেশি মুনাফার লোভে জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করার সংঘবদ্ধ কিছু চক্র সক্রিয় হয়ে পড়ছে। এই চক্রগুলো জাল টাকা তৈরি করে নিদির্ষ্ট কয়েকজন সদস্য দিয়ে আসল টাকার ভেতর জাল টাকা মিলিয়ে দিয়ে সহজ সরল মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এরকম চক্রের কিছু সদস্য র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি দল জানতে পারে, রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন হাজী নুরুল হক প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলের পাশে একটি ফ্লাটে জাল টাকা তৈরি করে আসছে একটি চক্র। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জালনোট ব্যবসায়ী মিজানুর ও রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে জাল টাকা ছাড়াও ৫টি মোবাইল ফোন, ১টি কিবোর্ড, ২টি টোনার, ১টি ল্যাপটপ, ১টি লেমিনেটিং মেশিন, ১টি প্রিন্টার, ১০টি স্ক্যানার বোর্ড, ২টি থাই বোর্ড, ৮৫০ গ্রাম টু পার্ট পেপার জল ছাপ, ৩ বোয়ম সোনালী রং, ৫টি এন্টি কাটার, ১টি  হিট লাইট, ৫টি হিট লাইট বাল্ব, ৫টি রাবার, ২টি এন্টি কাটার ব্লেড, ২টি ক্লাম, ৬টি স্কেল, ২টি ফয়েল পেপার, ১টি হাতুড়ি, ৩টি লিকুইড রং, ৩টি গাম, ২ কেজি পেইন্ট, ২ কৌটা হলুদ রঙ, ৫টি সেনসিটিজার, ২টি ব্যাগ, ৪টি থাইগ্লাস, ২২ কেজি টাকা বানানোর কাগজ উদ্ধার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ জালনোট তৈরি করে আসছিল তারা। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে জালনোট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে জালনোট তৈরি করে। জাল টাকা তৈরি ও বিপণনের কাজে জড়িত চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপ অর্ডার অনুযায়ী জাল নোট তৈরি করে, অপর গ্রুপ টাকার বান্ডিল পৌঁছে দেয়, আরেক গ্রুপ এসব টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়।

সহকারি পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার জানান, গ্রেফতাররা প্যাকেট আকারে সুনির্দিষ্ট কিছু লোককে সরবরাহের নিমিত্তে বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরি এবং বাজারে সরবরাহ করে আসছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

মিজানুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ২০১২ সালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইতিপূর্বে মাদক মামলায় গ্রেফতারের পর এক বছর কারাভোগ করেছেন।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এসআই