রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আর পানির সমস্যা হবেনা

রাজধানীর মিরপুর এলাকার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝড়া ভাকুর্তা এলাকায় ওয়েলফিল্ড। ঢাকা ওয়াসার এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিরপুর এলাকার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে মিরপুর এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ৪৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তলন করে সেই পানির আইরণ পরিশোধন করে পানযোগ্য করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আর পানির সমস্যা হবেনা
ছবিঃ সংগৃহীত

গবেষণালব্ধ এই প্রকল্প সফলভাবেই কাজ করছে বলে জানিয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, এই প্রকল্পটা একটা গবেষণালব্ধ প্রকল্প ছিল। অর্থাৎ এখানে গবেষণা হয়েছিল যে এখানে যে ‘অ্যাকুয়েফেয়ার’ আছে সেই অ্যাকুয়েফেয়ার থেকে পানি তুললেও সেই পানির স্তর নিচে যাবে না। গত দুই বছরের পর্যবেক্ষণে আমাদের গবেষণা প্রমাণিত হয়েছে যেটা বলা হয়েছিল তা হুবহু ঠিক রয়েছে। অর্থাৎ এখানকার পানির লেভেল নিচে নেমে যায়নি। শুধু তাই না আগামী ৪০ বছর পর্যন্ত এই পানি অক্ষুণ্ন থাকবে।

আজ সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার এমডি এসব কথা বলেন।

ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা শহরের পানির স্তর নিচে নেমে যায় বলেই তো ঢাকা শহরে আর পানি উত্তোলন করতে চাইনা। এখানে (ভার্কুতা প্রকল্প এলাকায়) উত্তোলন করার এটাই কারণ ছিল যে আগামী ৪০ বছর পর্যন্ত এই পানি অক্ষুণ্ন থাকবে। গত দুই বছর গবেষণা করার পর আমরা এখন বলতে পারি আমাদের কাজটা ঠিকমতো হয়েছে।

ভার্কুতার পানি মিরপুরে সরবরাহ করা হলেও ওই এলাকার মানুষের পানি প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের কথা তুলে ধরলে তাকসিম এ খান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে যখন এখানে কাজ শুরু হয়, তখন এই এলাকাতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এটাও কিন্তু ওই গবেষণায় বলা হয়েছিল যে এরকম একটা অবস্থা হতে পারে, হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে এখন সেই সমস্যাটা নেই। তারপরেও মন্ত্রীমহোদয় একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমরা এই এলাকাতে আরো কিছু সরবরাহ নেটওয়ার্ক করে দেব।

তিনি বলেন, শুরুতে এলাকায় পানির সমস্যা দেখা দিলেও এখন আর নেই। তবে প্রকল্প গ্রহণের আগেও এই এলাকাতে একটা সমস্যা ছিল, যেটা শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরে যেমন পানি সংকট দেখা দেয় তেমনি এখানেও শুষ্ক মৌসুমে সমস্যা দেখা দেয়। তবে যেকোনো সমস্যা যেটা হয় আমরা সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি এবং দেব। এই এলাকার ১০০ অধিক ডিপ টিউবওয়েল আমরা নিচে নামিয়ে দিয়েছি যাতে তারা পানি তুলতে পারে। তাছাড়া আমাদের উৎপাদনটা নমনীয় করা হয়েছে যে সময়টাতে তারা পানি উত্তোলন করবে সেই সময় আমরা যেন না চালাই।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপ: সাভার উপজেলার তেঁতুলঝড়া ভাকুর্তা এলাকায় ওয়েলফিল্ড নির্মাণ (১ম পর্ব) প্রকল্প। প্রকল্পটি ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর জাতীয় একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের আওতায় একটি আউটার গ্রাউন্ড রিজার্ভার রয়েছে যার ধারণক্ষমতা ৮ হাজার ১৬০ ঘনমিটার। দৈনিক ৭৫ হাজার মিলিয়ন লিটার পানি পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি আয়রন রিমুভাল প্লান্ট রয়েছে । প্রকল্প এলাকা থেকে ৪২ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ৪৬ টি গভীর নলকূপ রয়েছে, যার মাধ্যমে পানি উত্তলন করা হয়।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: ঢাকা ওয়াসার বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দৈনিক ১৫ কোটি লিটার পানি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মিরপুর এলাকার পানি সরবরাহ করতো মিরপুরের ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করন।

প্রকল্প ব্যয়: প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭৩ কোটি টাকা। তার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০.০৫ কোটি টাকা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ৩৬২ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা অর্থাৎ ৪৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ঢাকা ওয়াসা ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়। এবং ৫৩৫ দশমিক ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সমাপ্ত করা হয়।

প্রকল্পটি ডিপিপি অনুযায়ী ২০১২ সালের জুলাই হতে ২০১৬ সালের জুন সময়ের মধ্যে ৫২১ কোটি টাকায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত থাকলেও মূলত ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ভূমি অধিগ্রহণের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুলাই ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ৫৭৩ কোটি টাকায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হলেও প্রকল্পটি ৫৩৫ দশমিক ৪৪২ কোটি টাকায় সমাপ্ত করা হয়। অর্থাৎ ৩৭ দশমকি ৫৫৮ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম ব্যয়ে সমাপ্ত করা হয়