রাণীর ভ্যানিটি ব্যাগ রহস্য

রাজকীয় পরিবার মানেই ক্ষমতা আর রহস্যের রোমাঞ্চকর উৎস বলা চলে। পৃথিবীর আদি থেকে আজ অবধি এমন কোন রাজ পরিবার পাওয়া যায়নি যাদের জীবনে রহস্যের অস্তিত্ব ছিলো না। বরং রহস্য ব্যাতীত রাজ পরিবার যেনো একেবারেই নুন ছাড়া তরকারির মত। ব্রিটিশ রাজ পরিবার, শত শত বছর সারা দুনিয়ার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত প্রবল প্রতাপে শাসন করে এসেছে। …

রাণীর ভ্যানিটি ব্যাগ রহস্য

রাজকীয় পরিবার মানেই ক্ষমতা আর রহস্যের রোমাঞ্চকর উৎস বলা চলে। পৃথিবীর আদি থেকে আজ অবধি এমন কোন রাজ পরিবার পাওয়া যায়নি যাদের জীবনে রহস্যের অস্তিত্ব ছিলো না। বরং রহস্য ব্যাতীত রাজ পরিবার যেনো একেবারেই নুন ছাড়া তরকারির মত। ব্রিটিশ রাজ পরিবার, শত শত বছর সারা দুনিয়ার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত প্রবল প্রতাপে শাসন করে এসেছে। বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের বিজয় হলেও রূপ বদল করে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র আজও সগৌরবে জীবিত আছে।

বিশ্বব্যাপী ব্রিটিশ রাজপরিবারের অগাধ সম্মান, যেনো অঘোষিতভাবে তাদের রাজত্ব মেনে নেয়ার ই বহিঃপ্রকাশ। আর এই রাজ পরিবারের মধ্যমণি হলেন ব্রিটিশ রাণী। বর্তমান রাণীর নাম QUEEN ELIZABETH (II), ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সিংহাসনে অধিষ্টিত হন। তিনি ইতিহাসের দীর্ঘজীবি এবং দীর্ঘকালীন রাণী। রাণী হিসেবে তার চলাফেরা, বেশভূষায় আভিজাত্য ও নান্দনিকতা যেমন বিদ্যমান তেমনি তার সজ্জা উপকরণে লুকিয়ে রয়েছে নানাবিধ রহস্য উপাদান। রাণীর স্বাভাবিক সজ্জা উপকরণের মধ্যে অন্যতম হলো তার “ভ্যানিটি ব্যাগ” কিন্তু নিছক সজ্জা উপকরণ হিসেবে তিনি তার “ভ্যানিটি ব্যাগ” বহন করেন না। এই ব্যাগ বহন ও নাড়াচাড়ার মধ্যে লুকিয়ে আছে তার দেহরক্ষীদের জন্য গোপন কিছু ইংগিত।

রাণী রাজমহল থেকে কোথাও গেলেই তার ভ্যানিটি ব্যাগ তার সাথে থাকবেই। এই ব্যাগে কোন রকম অস্ত্র বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম তিনি বহন করেন না। তার জীবনী লেখক SALLY BEDELL SMITH এর দেয়া তথ্যমতে রাণী তার ভ্যানিটি ব্যাগে নিছক আর দশজন নারীর মত একটি মিনি আয়না, লিপস্টিক, মিন্ট ফ্লেভারের ক্যান্ডি রাখেন। কিন্তু তার এই ব্যাগের মুভমেন্টের মধ্য দিয়েই তার নিরাপত্তা কর্মীরা মূলত তিনটি ম্যাসেজ পান, সেগুলো হলো – কোন মিটিং বা কনফারেন্স বা গেট টুগেদারে গেলে বিভিন্ন মানুষ জনের সাথে তার কথা হয়। কথা বলতে বলতে যদি তার আর ভালো না লাগে তবে তিনি তার বামহাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি ডানহাতে নিয়ে নেন এর ফলে তার নিরাপত্তা কর্মীরা বুঝতে পারেন যে আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে রাণীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে যেকোনো অজুহাতেই হোক।

রাণী খুব গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপচারিতায় লিপ্ত। সেসব মান্যজন রাণীকে পেয়ে হয় আলোচনা দীর্ঘ করে ফেলছেন অথবা রাণীকে বিব্রতকর কথায় জড়িয়ে ফেলছেন এমন পরিস্থিতিতে রাণী তার ভ্যানিটি ব্যাগটি মাটিতে রেখে দেন যার ফলে দেহরক্ষীরা বুঝে যায় যে রাণীকে তখন সেখান থেকে শুধু সরিয়েই নয় বরং এক প্রকার উদ্ধারই করতে হবে। রাণীর সম্মানে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন হয় যেখানে রা্ণীর উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান কে প্রাণবন্ত ও যথার্থ করে থাকেন। সেই ভোজে রাণী অন্য সব মান্যজনের সাথে খেতে বসেছেন যখন রাণীর আর খেতে ভালো লাগেনা তখন রাণী তার ভ্যানিটি ব্যাগটি খাবার টেবিলের উপরে তার হাতের পাশে রেখে দেন যার ফলে তার দেহরক্ষী রা বুঝে যায় যে রাণী আর খাবার টেবিলে থাকতে চাচ্ছেন না এবং তিনি চাচ্ছেন পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেই ভোজন অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়ে যাক।

রাণীর ভ্যানিটি ব্যাগ গুলো বিশ্ব বিখ্যাত লেদার ও ফ্যাশন ব্রান্ড “LAUNER” এর তৈরি। রাণী এই ব্রান্ডকে ১৯৬৮ সালে তার ওয়্যারড্রব সামগ্রীর জন্য অনুমোদন দেন। বর্তমানে রাণীর কাছে এই ব্রান্ডের বিশেষভাবে নির্মিত ২০০ টি ভ্যানিটি ব্যাগ রয়েছে।