সামরিক আইনে মসনদে থাকার চেষ্টায় ট্রাম্প

সামরিক আইন জারি করে মার্কিন মসনদ আঁকড়ে ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শেষমুহুর্তে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যে কোন কিছু করতে পারেন তিনি। একদিকে যেমন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছেন একের পর এক, অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার বেপরোয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন এখনও।

সামরিক আইনে মসনদে থাকার চেষ্টায় ট্রাম্প

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প নিজের বেয়াইসহ ৪১ জন অপরাধীকে ক্ষমা করে তাদের দণ্ড মওকুফ করেছেন। এ তালিকায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা চার্লস কুশনারসহ প্রায় সবাই তার নিজের লোক। প্রেসিডেন্টের নিজস্ব লোকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই পুরো বিশ্বেই নজিরবিহীন। 

নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে ততই বাড়ছে শঙ্কা। নির্বাচনে পরাজয় না–মানা ট্রাম্প ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ক্ষমতায় বহাল থাকতে কোন পথে হাঁটছেন? এ প্রশ্ন এখন সবার। শেষ পর্যন্ত সামরিক আইন জারি করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ আশঙ্কা আরো বিশ্বাসযাগ্য করেছে সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে দেয়া ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লেনের বক্তব্য। 

নিউজ ম্যাক্সকে ফ্লিন বলেন, তেসোরা নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটিং মেশিন বাজেয়াপ্ত করে ঝুলন্ত অঙ্গরাজ্যগুলো সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় নিয়ে অর্থাৎ মার্শাল ল জারি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারেন। 

মাইকেল ফ্লিনের সামরিক আইন জারির পরামর্শের প্রতিবাদ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল লরেন্স উইলকারসনসহ অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে এমএসএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মেম্বার অবসরপ্রাপ্ত ফোর স্টার জেনারেল ব্যারি ম্যাক ক্যাফ্রে বলেন, সামরিক বাহিনীকে বেআইনি কোন নির্দেশ দেয়া হলে তা তারা মানবে না। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ১৫ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন সাবেক আইনপ্রণেতা। দুজন ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন তার নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক সহকারী। ব্যক্তিগত দীর্ঘ তালিকা থেকে অপরাধ ও দণ্ড মওকুফের ঘটনা প্রমাণ করে, সবদিক খোলা রাখছেন ট্রাম্প। 

ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়ে ক্ষমতায় আরও চার বছরের জন্য থেকে যাওয়ার কথাও ট্রাম্প চালু রাখছেন জোরালোভাবে। বুধবার একযোগে আরো ২৬ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। 

সাধারণত এসব সাধারণ ক্ষমার তালিকা বিচার বিভাগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্প কতজনকে ক্ষমা করেন, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই। 

এমনকি নিজের জন্যও তিনি ক্ষমাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে একসময় বলেছেন। শেষ মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে ক্ষমতা প্রদান করে ট্রাম্প নিজের জন্য সাধারণ ক্ষমা গ্রহণ করতে পরেন, এমন কথাও বলা হচ্ছে।

২০ জানুয়ারির আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন ৬ জানুয়ারির দিকে। ইলেক্টোরাল কলেজ থেকে প্রাপ্ত ভোট কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে গ্রহণ করার সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এ দিনে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে এসব সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় কখনো বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। এবারের পরিস্থিতি ট্রাম্পের কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের যৌথ সভায় পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।