স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যে সমস্ত খাবার

এখন ঘরে ঘরে হার্টের অসুখ ও স্মৃতি ভ্রমের সমস্যা। এখন আর আগেকার মতো শুধু বৃদ্ধ মানুষদেরই এই সমস্যা নেই। আট থেকে আশি সববয়সেই হার্টের অসুখ থাবা বসিয়েছে। কমবয়সী ছেলেমেয়েরাও দুর্বল স্মৃতিশক্তি, স্মৃতিভ্রমের অসুখে ভুগছে। এখনকার দিনে প্যাকেটজাত খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপন মস্তিষ্কের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার ছোট ছেলেমেয়েরা। তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা নানাভাবে হার্টের অসুখ ও স্মৃতি দুর্বলতায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই খাবার গুলো নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যে সমস্ত খাবার

হার্টকে সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাসে বেশ কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। এতে করে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা রাখা যাবে নিজেকে। বিজ্ঞানীরাও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ব্রিটেনে পুষ্টি ফাউন্ডেশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বয়স কম হওয়ার পরও এ দুটো কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে অকাল মৃত্যুর অন্তত চার ভাগের এক ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় হৃদরোগের জন্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মৃত্যু রোধ করা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য গবেষকরা।

আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া : প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার খেলে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়। যা কিনা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল। এছাড়া আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না খাবার খাওয়ার কথাও বলে থাকেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাওয়ার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন।

জমাট বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার এড়ানো : খাদ্য বিজ্ঞানীদের মতে, যেসব খাবারে চর্বি থাকে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এসব খাবার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এজন্য চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কিট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এ খাবার গুলোয় জমাট বাঁধা চর্বি প্রচুর থাকে।

মাছঃ
বিভিন্ন মাছে রয়েছে প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা হার্ট, মস্তিষ্ক সবেরই ক্ষতি রোধ করে।
খেঁজুরঃ
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস ও অন্যান্য উপকারী উপাদান যা মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে ও হৃদরোগের রোগের সম্ভাবনা কমায়।
মধুঃ
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপকারিতায় কোনও খাবার সম্ভবত মধুকে টেক্কা দিতে পারবে না। সব রোগের নিরাময় করতে মধু প্রয়োজন হয়। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্য়াগনেশিয়াম ইত্যাদি। ফলে হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্যও মধু একইরকম প্রয়োজনীয়।

কালোজিরেঃ
কালোজিরেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা হার্ট বা মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে কালোজিরে সাহায্য করে।
বাদামঃ
বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়, কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা কমায় ও হার্টকে সুস্থ রাখে।
কুমড়োরবীজঃ
কুমড়ো যেমন উপকারী তেমনই এর বীজে রয়েছে নানা খনিজ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা কমায় কমায় ও মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে।
আমলকিঃ
আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া হার্ট ও মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।