হতাশা কাটানোর আমল

জীবনের নানাক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন রকমের হতাশায় ভোগেন। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যে জীবনে কখনও হাতাশায় ভোগেননি। স্বাভাবিক নিয়মে জীবনের নানা বাঁকে মুমিনের জীবনে হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসতে পারে; দুঃখ-কষ্ট জীবনেরই অংশ। এসব এলে হতাশ হয়ে পড়া মুমিনের লক্ষণ নয়।

হতাশা কাটানোর আমল

ব্যর্থতা, দুর্যোগ, দুশ্চিন্তা নিত্য দিনের সঙ্গী। এসব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে যত মানুষ আছে তাদের সবার ব্যর্থতার গ্লানি টানতে হয়, দুশ্চিন্তা ও দুর্দশাগ্রস্ত হতে হয়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই দুশ্চিন্তা, মুসিবত ও বিপদ দূর করতে কী করতে হবে, তা রাসুল (সা.) বলে গেছেন। বাস্তব জীবনে দেখিয়ে গেছেন।

রাসুল (সা.) যেকোনো সংকটে পড়লে তৎক্ষণাৎ নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি মাঝেমধ্যে বেলাল (রা.)-কে বলতেন, হে বেলাল, আজান দিয়ে আমাদের শান্তি দাও। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৫)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলে দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্যধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার। -সূরা আলে ইমরান: ২০০

রাতের পর যেমন দিন, ঠিক তেমনি দুঃখের পর আছে সুখ। কাজেই কোনো দুঃখে মুষড়ে পড়া কোনো মুসলমানের সাজে না। মানুষ যত বড় পাপীই হোক, আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আপনি যত পাপীই হোন, আর যত দুঃখ কষ্টের মধ্যেই থাকুন না কেন, আল্লাহকে স্মরণ করুন। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি নিশ্চয়ই আপনার ডাকে সাড়া দেবেন।  

এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। ’ -সূরা আল মুমিন: ৬০

বিপদ-আপদ ও যেকোনো মুসিবতে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ থেকে সাহায্য নেওয়া প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নামাজ ও ধৈর্য যাবতীয় সংকটের প্রতিকার। এ দুই পন্থায়ই আল্লাহ তাআলার সাহায্য-সহযোগিতা লাভ হয়।