হবু বরের কাছে কনের আপত্তিকর ভিডিও পাঠালো প্রেমিক!

আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করে প্রেমিকার বিয়ে ভাঙতে গিয়ে কারাগারে গেলো প্রেমিক ও তার দুই সহযোগী। নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, প্রেমিক চরকাঁকড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডের হলুদ ব্যাপারীবাড়ির মৃত নুরনবীর ছেলে আরমান হোসেন রাজিব ও তার দুই সহযোগী চরপকিয়া ইউপির চরকালী গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভূঁইয়াবাড়ির নিজাম উদ্দিনের ছেলে মেহবুব জামান রিমন এবং বসুরহাট পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াউদ্দিন ব্যাপারীবাড়ির হোসেন আহম্মেদের ছেলে ইমাম হোসেন।

হবু বরের কাছে কনের আপত্তিকর ভিডিও পাঠালো প্রেমিক!
ছবি প্রতীকী

পুলিশ ও মামলার বাদীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, বখাটে আরমান হোসেন রাজিব প্রেমের সম্পর্ক গড়ে মেয়েদের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করাই তার নেশা। ঘটনার মূল নায়ক রাজিব সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে কলেজে যাওয়া-আশার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে রাজিব তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপন ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখে। বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে।

বিষয়টি ওই ছাত্রীর বাবা বখাটে রাজিবের অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে রাজিব আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর বেশ কিছু ছবি ছেড়ে দেয়।

এরই মধ্যে ২২ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর বিয়ের কথা সম্পন্ন হয়। এতে রাজিব ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ওই ছাত্রীর হবু বর, শ্বশুর ও নিকটাত্মীয়দের বিয়ে ভেঙে দেয়ার উদ্দেশ্যে ওইসব আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি দেখায়। বিয়ে বন্ধ করা না হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানানোর পর মূলনায়ক রাজিবসহ তার সহযোগীরা ২৬ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর হবু বরের বাড়িতে গিয়ে নানা হুমকি-ধামকি দেয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বখাটে রাজিব, তার সহযোগী রিমন ও ইমাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা চারজনকে আসামি করে কোম্পানিগঞ্জ থানায় গেলো ২৬ ডিসেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় সাত সাক্ষীর মধ্যে ওই ছাত্রীর হবু বর ও হবু শ্বশুর সাক্ষী রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় তিন আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।