হামলা করতে গিয়ে পাল্টা হামলায় নিজেই নিহত

বিরোধের জেরে এক যুবককে মারার জন্য তার বাড়িতে হামলা চালাতে গিয়ে পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে মুরাদ হোসেন (২৮) নামে এক বখাটে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুরাদ মারা যায়। নিহত মুরাদ সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সৈয়দপুর গ্রামের মীর বাড়ির আলী হোসেনের ছেলে।

হামলা করতে গিয়ে পাল্টা হামলায় নিজেই নিহত
হামলা করতে গিয়ে পাল্টা হামলায় নিহত মুরাদ

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, নানান অপকর্মের সাথে জড়িত মুরাদ সব সময় দলবল নিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করত। সম্প্রতি তার এক প্রতিবেশী একই গ্রামের তসলিম উদ্দিন মিঠুর ছেলে মিনহাজ উদ্দিন পায়েলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মুরাদ ও তার বাহিনী গ্রামের পথে পায়েলকে একা পেয়েই লাঠিসোটা দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এরপর পায়েল হামলায় আহত হয়ে পালিয়ে নিজ ঘরে আত্মগোপন করে। কিন্তু বখাটে মুরাদ ও তার দলবল তার ঘরে প্রবেশ করেও পায়েলকে মারধরের চেষ্টা করলে তার মা-বাবা বাধা দেয়। এসময় মুরাদ প্যান্টের বেল্ট খুলে পায়েলের মা-বাবাকেও পেটাতে শুরু করে। এতে পায়েল ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সেখানেই মুরাদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে মুরাদের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। 

সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজামী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুরাদ এলাকায় কুখ্যাত যুবক হিসেবে পরিচিত। তার দলবল নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতো। বিরোধের জেরে সে গত শুক্রবার এলাকায় ভদ্র হিসেবে পরিচিত পায়েলকে দফায় দফায় মারে। শেষে পায়েল পালিয়ে গেলে তার বাড়িতে গিয়েও হামলা করে এবং তার বাবা-মাকে মারধর শুরু করলে পায়েল ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদকে কুপিয়ে জখম করে। এর দুদিন পর রোববার সে হাসপাতালে মারা যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি নিউজকে বলেন, হামলাকারী মুরাদ খারাপ প্রকৃতির যুবক। তবে ঘটনার দিন তার পরিবার পায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এখন সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে আইনগত ব্যবস্থা নেব। 

সুত্রঃ আরটিভি নিউজ