৫ বছর পর খুলল হত্যা রহস্যের জট

খুলনার দৌলতপুরে আলী হোসেন মিঠু হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তির বরাতে আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলে খুলনা সিআইডি। হত্যার রোমহর্ষক>

৫ বছর পর খুলল হত্যা রহস্যের জট

খুলনার দৌলতপুরে আলী হোসেন মিঠু হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তির বরাতে আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলে খুলনা সিআইডি।

হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনায় আসামিরা জানান, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে দুই বন্ধু বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রথমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে গলায় রশি বেঁধে শ্বাসরোধ  করে হত্যা। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে গাবখান ব্রিজের উপর থেকে নদীর মাঝে ফেলে দেয়া হয়। এমনই লোমহর্ষক ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন খুলনার দৌলতপুরের আলী হোসেন মিঠু।

ঘটনাটি ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বরের। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ নভেম্বর মামলা দায়ের হলেও ঘটনার ৫ বছর পর আলোচিত মিঠু অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে খুলনা সিআইডি। আর মামলার এক আসামির শালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরেই মিঠুকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমনটাই তথ্য পেয়েছেন খুলনা সিআইডি। 

এ বিষয়ে খুলনা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, দৌলতপুরের আলোচিত আলী হোসেন মিঠু হত্যা মামলার রহস্য ৫ বছর পর উন্মোচন করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিঠুকে হত্যার বিস্তারিত তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে।      এদিকে মঙ্গলবার খুলনা সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুলনার দৌলতপুরের মিঠু অপহরণ ও হত্যার রহস্য ৫ বছর পর উন্মোচন করল খুলনা সিআইডি। ভিকটিম মিঠুকে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তার কথিত বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম ওরফে আহাদ শেখ (৩৫), মো. রাশেদুল ইসলাম (৩২) ও মো. সুমন মল্লিক (৩৫) কৌশলে খুলনা থেকে মোটরসাইকেল যোগে ঝালকাঠির রাজাপুর নিয়ে যায়। সেখানে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে ঝালকাঠি গাবখান ব্রিজ থেকে ফেলে দেয় বলে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তিন আসামি। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর আসামি রাশেদুল ইসলাম ও রিয়াজুল ইসলাম ভিকটিম আলী হোসেন মিঠুর বাড়িতে এসে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মিঠুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে মিঠু আর ফিরে না আসায় মিঠুর বাবা মো. এনামুল সিকদার রিপন বাদী হয়ে ২৮ নভেম্বর দৌলতপুর থানার মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে  আসে।

এ মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি রিয়াজুল শেখ আহাদের শালিকার সাথে ভিকটিম মিঠুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এজাহারনামীয় ২নং আসামি রিয়াজুল শেখ আহাদ তার শ্যালিকা এবং ভিকটিম মিঠুর এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। সে মিঠুকে তার শ্যালিকার সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু মিঠু তার কথা শোনেননি। এ কারণে সে মিঠুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। আহাদ একজন পেশাদার অপরাধী ও খুন, অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহাদ এবং ১নং আসামি রাশেদুল মিঠুর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর রাশেদুলের মোবাইল নম্বর দিয়ে আহাদ ভিকটিম মিঠুকে ফোন করে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আলী হোসেন মিঠুর বাড়ি এসে ভিকটিমের এফজেড মোটরসাইকেলে তিনজন ঝালকাঠি যায়। পূর্বে সেখানে অবস্থানরত আসামি সুমন মলি­ক এবং ইমরান শেখ ওরফে মেহেদি চৌধুরী মিলে ইমরান শেখের খালু মৃত বারেক ডিলারের পরিত্যক্ত বাসায় ঝালকাঠি থানাধীন কেপায়েত নগর গ্রামে সবাই মিলে কোমল পানীয় (স্পীড)-এর সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে গলায় রশি বেঁধে শ্বাসরোধ করে ভিকটিম মিঠুকে হত্যা করে। হত্যার পর মিঠুর লাশ একটি বস্তায় ভরে ভিকটিম মিঠুর মোটরসাইকেলে করে গাবখান ব্রিজের উপর থেকে নদীর মাঝে ফেলে দেয়