গাজায় শতাধিক নিহত, যুদ্ধের দামামা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহত ১০০ ছাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান রয়েছে। ...

গাজায় শতাধিক নিহত, যুদ্ধের দামামা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহত ১০০ ছাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান রয়েছে। লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপের দাবি করছে তেল আবিব।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গাজায় ১০৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ শিশু ও অন্তত ১১ জন নারী রয়েছেন।   

গেল সোমবার (১০ মে) ইসরায়েলি আক্রমণ শুরুর পর থেকে সেখানে আহত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ৫৮০ জনে। আহতদের চিকিৎসা দিতে সেখানকার হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। কারণ করোনা রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো আগে থেকেই নাজেহাল অবস্থায় ছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বিমান হামলা ও বোমা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে হামাস গাজা থেকে রকেট ছুড়ছে। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের বাহিনী গাজায় প্রায় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে এরইমধ্যে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলে ৭ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গাজা সীমান্তে ইসরায়েল তাদের দুটি পদাতিক ও একটি সাঁজোয়া ইউনিট মোতায়েন করে। সেইসঙ্গে নতুন করে আরও ৭ হাজার সেনাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, বৃহস্পতিবার লেবানন থেকে ৩টি রকেট ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েল সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রকেটগুলো ভূমধ্যসাগরে পতিত হওয়ায় তাদের বড় কোনও ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। তবে রকেটগুলো সেখানকার উপকূলীয় কেলাইলেহ অঞ্চল থেকে ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে লেবানন।

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ৭ সপ্তাহের যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত চলছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় থেকে বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা থেকে এবারের সংঘাতের সূত্রপাত। এই ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করছে তার প্রকৃত মালিক ইহুদিরা, গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠনের এমনই দাবি। 

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা এ ঘটনাকে জেরুজালেম থেকে তাদের বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে দেখছে। 

এ নিয়েই এপ্রিলের শেষ দিকে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ, ইসরায়েলিদের বসতি স্থাপনকারী ও পুলিশের সঙ্গে তাদের ছোটখাটো সংঘর্ষ হতে থাকে।

সংঘর্ষ বন্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সহিংসতা মেটাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। যদিও এ সংঘর্ষকে ‘ইসরায়েলের আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গেল মঙ্গলবার গাজায় হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ে ইসরায়েলের সব হামলা মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল সহিংসতা বন্ধ করতে চাইলে তাতে ফিলিস্তিন রাজি বলেও জানিয়েছেন এ হামাস নেতা।