দুবলারচরে এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

পুরনো ছবি

সুন্দরবনের দুবলারচরে এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব। ফলে হবে না মেলার আয়োজন। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুণ্যস্নান করতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাসমেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কার্যালয়ে মঙ্গলবার আলোচনা সভা হয়। সভায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাসপূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ও ট্যুরিস্ট অপারেটরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছর রাসমেলা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ সুন্দরবনের দুবলারচরে যান। ওই তালিকায় থাকেন হিন্দু, মুসলমান থেকে শুরু করে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে গত বছর কোভিড পরিস্থিতির কারণে শুধু পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকেই সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আর ২০১৯ সালে রাসপূজার সময় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানায় কাউকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি বন বিভাগ।

 

চলতি বছর রাসপূজা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর। এরমধ্যে ১৭ নভেম্বর সকালে বাগেরহাটের মোংলা থেকে রাসপূজা উপলক্ষে সুন্দরবনের আলোরকোলের উদ্দেশ্যে নৌযানে করে যাত্রা শুরু করবেন আয়োজকরা। সাতক্ষীরা ও খুলনার নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার করে সেখানে যেতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পূজা আর ১৯ নভেম্বর প্রথম প্রহরে স্নান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফিরতে শুরু করবেন তারা।

 

সভায় পূজা উদযাপন কমিটি ও ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবন কমিটির পক্ষ থেকে রাসপূজায় সব ধর্মাবলম্বীদের সেখানে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা দাবি করেন, এদেশ সব সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। রাসমেলা উপলক্ষে সেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষই সমাগত হন। ওই উপলক্ষে মেলাস্থল পরিণত হয় এক মিলন মেলায়। প্রতিবছর মেলায় যাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে পূজায় যাওয়ার অনুমতি দিলে মানুষে মানুষে সেই মিলবন্ধন আর থাকবে না।

 

খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাছাড়া সরকার থেকেও পূজায় পুণ্যার্থীর বাইরে কারো যাওয়ার জন্য অনুমতি নেই। এ কারণে সেখানে অন্য ধর্মের লোক যেতে পারবেন না।

 

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার কথা চিন্তা করে গত কয়েক বছর থেকে আলোরকোলে রাসপূজা উপলক্ষে মেলা না করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ২ বছর কোভিড ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা বাস্তবায়নে অনেকটা সফল হয়েছে বন বিভাগ।