গাংনীতে নির্বাচনী সহিংসতায় ২ ভাই নিহত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ধলা গ্রামে মেম্বর পদপ্রার্থী টুটুল ও আতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে টুটুল পক্ষের দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই গ্রুপের আহত হয়েছে নারীসহ অন্ততঃ ২০ জন। নিহতরা হচ্ছে- সুলতান হোসেনের ছেলে সাহাদুল ইসলাম(৫৫) ও জাহারুল ইসলাম (৫৭)। আহতদের কে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

 

নিহত সাহাদুলের মেয়ে সুর্বণা জানান, বর্তমান মেম্বর টুটুল সকালে ভোট চাইতে গেলে আতিয়ার রহমানের লোকজন টুটুলকে ধরে একটি বাঁশ বাগানে নিয়ে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে সাহাদুল ও জাহারুলসহ অন্যান্যরা এগিয়ে গেলে দেশিয় অস্ত্র ও বাশের লাঠি নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় আতিয়ার রহমানের লোকজন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই ভাই সাহাদুল ও জাহারুল। নিহতদের বাড়ি ঘরেও হামলা চালানো হয়। এতে নারীসহ আহত হয় অন্ততঃ ২০ জন।

 

ঘটনার পর পরই গাংনী র‌্যাব ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি তারেক আমান বান্নার নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ১১টি ধারালো অস্ত্র, ২টি টেটা, একটি বল্লম ও তিনটি মাথাল উদ্ধার করে। ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, হত্যাকারীদেরকে আটকের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
নিহত সাহাদুলের মেয়ে সুবর্ণা জানান, ঘটনার সময় আতিয়ার ও তার লোকজন বাড়িতেই অবস্থান করছিল। পুলিশের সামনে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদেরকে আটক করেনি। পুলিশের সহায়তায় তারা পালিয়েছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধলা গ্রামটি পুরুষ শুণ্য। আতিয়ার গ্রুপের কোন নারী পুরুষ ঘরে নেই। যার যা ছিল তা নিয়েই পালিয়েছে। শুধু নিহতের পরিবারের লোকজন বিলাপ করছেন। গৃহবধু বিলকিছ জানান, টুটুল মেম্বর ও আতিয়ারের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্ব›দ্ব দীর্ঘ দিনের। এ কারণে ২০১০ সালে টুটুলের ভাই সেন্টু এবং ২০১৭ সালে এনামুল হক খুন হয়।

 

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ জনকে থানায় নেয়া হয়েছে। কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরকে আটক দেখানো হবে।