বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের ১০ লাখ টাকা জরিমানা

সারাদেশে বাস ধর্মঘটের জন্য ট্রেনে যাত্রীদের বাড়তি চাপ ছিল। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীরা ট্রেনমুখী হয়েছিল। ট্রেনের সব বগিতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আর বিনা টিকিটেই ট্রেন ভ্রমণের কারণে যাত্রীদের জরিমানাসহ ভাড়া প্রদান করতে হয়েছে।

 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় ৫টি রেলওয়ে স্টেশনে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫৫০ যাত্রীর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করেছেন রেলওয়ের বাণিজ্যিক দফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

২১টি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেনে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৩ হাজার বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে এক দিনে ১০ লাখ ৩ হাজার ২৪০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। সোমবার (৮ নভেম্বর) রাত ১০টায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুর থেকে (৮ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন খুলনা, রাজবাড়ী, ঈশ্বরদী জংশন, রাজশাহী, বঙ্গবন্ধু সেতু (পশ্চিম), বঙ্গুবন্ধু সেতু (পূর্ব), পার্বতীপুর স্টেশনে বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ট্রেনে ব্লক চেকিং করা হয়।

অভিযান চালানো আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হলো-পদ্মা এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, সীমান্ত এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, ঢালারচর এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস।

 

পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে রাজশাহীর ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক উৎপল কুমার কর্মকার, আব্দুস সালাম সেলিম, সাব্বির হোসেন, সুমন আলী, নাসির উদ্দিন, ঈশ্বরদীর আব্দুল মাবুদ, ইয়াসির আরাফাত, গোলাম কিবরিয়া, বরকতউল্লাহ আল-আমিন, আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু, মার্টিন জয় মণ্ডল, হাসিবুর রহমান অভিযান পরিচালনা করেন।

এছাড়া খুলনার মনোয়ার হোসেন, এনায়েত হোসেন, আল মামুন, ইব্রাহিম হোসেন, ইলিয়াচ হোসেন, পার্বতীপুরের রায়হান কবীর, নাসিমুল হক, আশিকুর রহমান, রাসেল মিয়া, রাজবাড়ীর মকলেছুর রহমান, এনামুল হক, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস আব্দুল হালিম বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়াসহ জরিমানা ভাড়া আদায় করেন।

 

ডিসিও নাসির উদ্দিন জানান, সারাদেশে বাস ধর্মঘটের কারণে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছিল। যাত্রী দ্বিগুণ হওয়ার কারণে কোচ বাড়ানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীরা সবাই ট্রেনমুখী। বেশ চাপ সামলাতে হয়েছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় দফতরের বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মচারীদের।

 

তিনি আরও জানান, একদিনে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন ২১টি ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এতে ৩ হাজার ৫৫০ যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া ৭ লাখ ১২ হাজার ১৮০ টাকা, জরিমানা ২ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৩ হাজার ২৪০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।