পলাতক আসামি তারেক বিদেশে বসেও ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী

সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে, তখন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান বিদেশে বসেও দেশের অগ্রগতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্যারিস সফর শেষে দেশে ফেরার আগে স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ নভেম্বর) প্রবাসীদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি তারেক রহমান বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচিহ্ন অনুসরণ করে আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে পেরেছি। সুতরাং, এখন কেউ আমাদের অবহেলা করতে পারবে না। বিশ্ব অবশ্যই আমাদের সম্মান করবে। কারণ, আমরা আমাদের দেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে এসেছি।

দেশকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিতে তার সরকারকে বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসংযোগ, প্রাণনাশের জন্য তার ওপর হামলার মতো অনেক বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর দায়িত্ব গ্রহণ করে আমরা দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। অথচ অতীতে বিএনপি-জামায়াত চক্র দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি চালু করে নিজেদের ভাগ্য তৈরি করেছে।

 

বর্তমান সরকার বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রবাসীরা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জনগণের পাশে ছিল।

এসময় তিনি সফলতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি জীবন-জীবিকা রক্ষায় তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক উন্নত দেশও পারেনি। প্রধানমন্ত্রী করোনা থেকে নিজেদের রক্ষায় মাস্ক পরতে আবারও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ঘুষের অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু কানাডার ফেডারেল কোর্টে তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।

দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

শেখ হাসিনা সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমানসহ ১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর দুঃশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে সমাজে একটি অভিজাত শ্রেণি সৃষ্টি করে। বিচারের নামে জিয়াউর রহমান শত শত সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে। নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা তাদের লাশও পায়নি। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের দায়ে আদালতে দণ্ডিত। তাদের পুত্র তারেক রহমান ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত।

 

সরকারপ্রধান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সরকার একজন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। তার অপরাধ ছিল সে একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড আলামত হিসেবে রেখে দিতে চেয়েছিল। যে পুলিশ অফিসার ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।