মেলায় যাওয়ার কথা বলে শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকায় মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপহরণ করে ধর্ষণের পর চাচাতো শ্যালিকাকে (১৩) হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ঘাতক মো. হাসান (৪৮)। ঘটনার ১৭ দিনের মাথায় ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআইয়ের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহাদাৎ হোসেন এসব তথ্য জানান।

 

কিশোরগঞ্জ পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সকালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরের কাদাপানি থেকে সাজগোজ করা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করলেও রহস্যের জট খুলতে পারছিল না থানা পুলিশ।

 

শেষ পর্যন্ত গত ১ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ পিবিআই মামলাটির তদন্তভার পায়। ১৭ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টায় শিশুটির চাচাতো দুলাভাই মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর হাসান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলে ১৮ নভেম্বর বিকেলে তাকে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল বারির আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি চাচাতো শ্যালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

 

হাসান জানিয়েছেন, ১৭ মার্চ বিকেলে মেয়েটি তাদের বাড়ি একই উপজেলার চর কামালপুর গ্রাম থেকে লাউয়ের ডুগা তুলতে যায়। লাউয়ের ডুগা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার সঙ্গে দেখা হয় হাসানের। তখন তাকে বাড়িতে এগিয়ে দেওয়ার সময় রাতে মেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখালে সে রাজি হয়। সে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সাজগোজ করে অপেক্ষা করতে থাকে।

রাত ১২টার দিকে হাসান গিয়ে ঘরের দরজায় টুকা দিলে কাউকে না বলে ঘর থেকে চুপিচুপি বেরিয়ে আসে মেয়েটি। পরে তাকে মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক নির্জন কলাবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন। পরে আবার ধর্ষণের সময় তার মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় মেয়েটিকে পার্শ্ববর্তী পুকুরের কাদাপানিতে ফেলে দিয়ে নিজে গোসল করে বাড়িতে চলে যান হাসান।

 

পুলিশ সুপার মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘাতক হাসান এর আগে বলাৎকারের মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দুই বছর কারাভোগ করেছে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।