তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ ত্রিপুরায় গ্রেফতার

ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরায় গ্রেফতার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপি শাসিত রাজ্য বিশৃঙ্খলা চলছে। রাজ্যটিতে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে দলটি বিষয়টি দিল্লিতে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

রবিবার রাতেই কলকাতা থেকে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূলের ১৫ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা। তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ত্রিপুরায় সহিংসতা নিয়ে আলোচনার জন্য সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে সোমবার সকালে তারা দিল্লিতে ধর্নায় বসবেন।

সোমবার ত্রিপুরায় যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাইপো ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সায়নী ঘোষকে রবিবার গ্রেফতার করে ত্রিপুরা পুলিশ। দলটির অভিযোগ সায়নীর ওপর হামলা চালিয়েছে বিজেপির গুন্ডারা। আগরতলা পুলিশ স্টেশনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি তাদের।

সায়নী ঘোষের সঙ্গে ছিলেন দলের অন্য নেতারা। এদের মধ্যে এমপি সুস্মিতা দেব, কুনাল ঘোষ ও সুবল ভৌমিকও ছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ তাদের সবার ওপরই পূর্ব আগরতলা নারী পুলিশ স্টেশনের অভ্যন্তরে হামলা হয়েছে। এই হামলায় দলের ছয় সমর্থক আহত হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির দাবি সায়নী ঘোষ শনিবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের এক জনসভায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। বিজেপি বলছে, সায়নী জনসভায় পাথর ছুড়েছেন।

 

পুলিশ বলছে, সায়নী ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ স্টেশনের বাইরে সমবেত মানুষের ওপর কিছু অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারী হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।

পরে সায়নী ঘোষকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা এবং মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বলছে তাকে জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের রাজ্য নির্বাচন সামনে রেখে ত্রিপুরায় নিজেদের ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতারা ত্রিপুরায় প্রবেশের পর বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।