ভারতে চতুর্থ ওমিক্রন আক্রান্ত, ‘তৃতীয় ঢেউয়ের প্রস্তুতি’ নেওয়ার পরামর্শ

ভারতে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। শনিবার গুজরাতে তৃতীয় ব্যক্তি এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর একই দিন মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে আরেক তরুণের দেহে এই স্ট্রেইন পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. বিকাশ ভাটিয়া বলেছেন, বিশ্ব ওমিক্রন নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় থাকলেও ভারতের উচিত তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

 

ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রামক হতে পারে আশঙ্কায় ভারতজুড়েই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখের নিচে থাকলেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যাতে করে এপ্রিল-মে মাসের মতো দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডব পুনরায় দেখা না দেয়।

 

ওমিক্রনে আক্রান্ত চতুর্থ ব্যক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুবাই ও দিল্লি হয়ে মুম্বাই এসেছেন। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, ওই ব্যক্তি বিদেশ হতে মুম্বাইয়ের কালে কল্যাণ ডমবিভালি পৌর এলাকায় এসেছেন। তিনি ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

এই ব্যক্তির মৃদু উপসর্গ রয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সংস্পর্শে আসাদের মধ্যে ১২ জন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩ জন কম ঝুঁকিপূর্ণ। এদের সবার নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিন: শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

শনিবার এইমস-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. বিকাশ ভাটিয়া বলেছেন, মৃত্যুহার কম হলেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে উচ্চ সংক্রমণশীলতা মাথায় রেখে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

 

ভ্যারিয়েন্টটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে হাইব্রিড ইমিউনিটির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বলেন, যখন আমরা করোনার সঙ্গে হাইব্রিডের সম্পর্কের কথা বলি তখন আমরা আক্রান্ত ও টিকার মাধ্যমে গড়ে ওঠা ইমিউনিটির কথা বলি। যখন এই দুটি একসঙ্গে কাজ করে তখন আমরা এটিকে হাইব্রিড বলি।

ড. ভাটিয়া বলেছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে যদি অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় তাহলে উদ্বেগের বিষয় হবে। কিন্তু দেশজুড়ে টিকা কর্মসূচির কারণে এটি সমস্যা হবে না।

 

তিনি মনে করেন, এটি মৃদু রোগ হতে পারে। যদি সংক্রমণের হার বেশি হয় কিন্তু কম প্রাণঘাতী হয় তাহলে এটি মানুষের মধ্যে ছড়াতে এবং ইমিউনিটি তৈরি করতে পারে। অক্সিজেনে মাত্রা কমে যাওয়া ও মৃত্যুহার আমাদের মূল উদ্বেগের কারণ। যদি এই দুটো বেশি সমস্যা হয় তাহলে সংক্রমণশীলতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ থাকা উচিত। কারণ টিকাদান চলছে।

 

ড. ভাটিয়ার মতে, ভারতে হাইব্রিড ইমিউনিটি খুব বেশি যা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা দেবে। সূত্র: টাইমস নাউ নিউজ, লাইভমিন্ট