গাংনী; গোলামের যুদ্ধে যাবার ইতিকথা

দেশ মাতৃকাকে ভাল বেসে জীবন বাজি রেখে যে সকল মহান যোদ্ধা অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন পাক সেনাদের সাথে তাদের অন্যতম একজন গোলাম মিয়া। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্ত ঘেষা গ্রাম কাজিপুরের মৃত সাকেম উদ্দীনের ছেলে।

 

বয়স তখন কতই বা হবে ? ১৭ কিংবা ১৮ বছর । টগবগে এ যুবক স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চের ভাষণ ও তার দোলাভাই আমির আলীর অনুপেরণায় উদ্বুদ্ব যুদ্ধে যাবার জন্য প্রস্তুতি নেন। বাবা মা মেনে নিবে না বা তাদেরকে ছেড়ে যেতে কষ্ট হবে তাই সবার অলক্ষ্যে রওনা দেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে। সেটি ছিল ভারতের নদীয়া জেলায়। সেখানে ভারতীয় সোবাহিনী আব্দুল লতিফ নামের এক হাবিলদারের অধিনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে উচ্ছতর প্রশিক্ষণেল জন্য বিহার প্রদেশের চাকুলিয়াতে যান। সেখানে একমাস ধরে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকে শিকারপুর ৮ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টরে ফিরে আসেন তিনি। তৎকালীণ তৌফিক ই ইলাহী সাহেবের অধীনে নিজ নামে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়।

 

অস্ত্র সরবরাহের পর তৌফিক ই ইলাহীর আদেশে বাংলাদেশের বামন্দী পাক বাহিনীর ক্যাম্প কে টার্গেট করে পাঠানো হয়। সেখানে মাস খানেক যুদ্ধ করার পর পাকবাহিনী পিছু হটে। পরে হাড়াভাঙ্গা এলাকায় অবস্থান নেয়া হয়। পাক বাহিনী স্থানীয় একটা শরণার্থী শিবিরে আগুন লাগাবেন এ সংবাদ পেয়ে ১০ জন করে একেকটি প্লাটুনে ভাগ হয়ে তিন দিক থেকে সাহেবনগরে অবস্থান নেন। সেময় গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন বেতবাড়িয়ার হানিফ।

 

সেখানে সবাইকে রেখে তিনজন সাহেবনগর মাঠে আসেন পাক বাহিনীর অবস্থান নিশ্চি করতে। তখন রাজাকার বাহিনীর গুপ্তচরকে জিজ্ঞাসা করতেই পাক বাহিনীরা তাদেরকে ঘিরে ফেলে। এসময় তিনজনই পিছু হটে। পাকবাহিনীরা আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধারাও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আট ঘন্টা ব্যাপি এই যুদ্ধে পাক বাহিনীর ১১ সেনা নিহত হয়। তবে শরনার্থী শিবিরের নারী পুরুষেরা গুলিতে আহত হন। পরে ব্যানগাড়ির মাছে আরো একটি যুদ্ধ হয়। সেসময় ভারতীয় মিত্রবাহিনী ছিল। পাক বাহিনীর ছোড়া বোমের স্পীলিন্টারে গোলামসহ কয়েকজন আহত হন। পরে সহকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের চিকিৎসা শিবিরে পাঠিয়ে দেয়।

 

বন্ধুদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গোলাম বলেন, পাক বাহিনীরা যখন তাদেরকে তাড়া করেন সে সময় গ্রামের আবু বকর প্রথম রাইফেলের গুলি ছোড়ে। ও না থাকলে মনে হয় বাঁচতে পারতেন না তিনি। তাছাড়া হানিফ আশরাফসহ অনেকেরই কথা মনে পড়ে। সকলেই দেশ মাতৃকার জন্য জিবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

 

গোলামের স্ত্রী সাহার বানু জানান, মুক্তিযুদ্ধ যখন হয় তখন তিনি অত্যন্ত ছোট। তেমন কিছুই বুঝতেন না। এখন বুঝতে পারেন। স্বামি একজন মুক্তিযোদ্ধা। যারা এই দেশকে স্বাধীন করেছে তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্ব সাহার বানু। যেখানে যান সেখানেই সম্মান পান । সব স্থানেই তিনি গর্ব করে বলতে পারেন তার স্বামি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে গোলাম বলেন, কিছু পাবার আশায় দেশ স্বাধিনের জন্য যুদ্ধে যান নি। তার পরও সরকার যে সম্মান যে সহযোগিতা করছেন এতেই তুষ্ট তারা।