তিন ধরনের ভিসাধারীরা দর্শনা-গেঁদে চেকপোস্ট দিয়ে ভ্রমণ করছেন

দর্শনা স্থলবন্দর। ফাইল ছবি।

তিন ধরনের ভিসাপ্রাপ্ত পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর দর্শনা দিয়ে এখনও ভারত-বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। তিন ধরনের ভিসা হলো, মেডিক্যাল, বিজনেস এবং স্টুডেন্ট। তবে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে নতুন করে আর কোনো ভিসা দেওয়া হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন দর্শনা ইমিগ্রেশন সূত্র।

 

দর্শনা ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে সকল রুটের মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসাধারীরা এ রুটে ভ্রমন করতে পারছেন। তবে ৭ ডিসেম্বরের পর থেকে যাদের ভিসায় বাই রোড গেঁদে-দর্শনা উল্লেখ থাকবে কেবল তারাই এ রুট দিয়ে ভারত যেতে পারবেন।

 

দর্শনা বন্দর দিয়ে ভারতে ভ্রমণকারীদের বৈধ পাসপোর্ট ভিসার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর ল্যাবের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগছে। আর ভারত থেকে যারা দেশে ফিরছেন তাদেরও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করা ভারতের যে কোনো অনুমোদিত পিসিআর ল্যাবের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগছে। এছাড়া ভারত ফেরত যাত্রীদের দর্শনা বন্দরে মেডিক্যাল বুথে হ্যান্ড থার্মাল স্কানারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বন্দরে করোনার র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টও করা হচ্ছে।

সপ্তাহে সাতদিন অর্থাৎ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা চলাচল করতে পারছেন ৫শ টাকা ট্র্যাভেল ট্যাক্স দিয়ে। দর্শনা বন্দরে অনলাইনে ট্রাভেল ট্যাস্ক নেওয়া হচ্ছে।

 

দর্শনার বিপরীতে মাত্র ৮শ মিটার রাস্তা পাড়ি দিলেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার গেঁদে রেলস্টেশন। স্টেশনের সঙ্গে ইমিগ্রেশন-কাস্টমস অফিস। এখানে ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সম্পন্ন করে সেখান থেকে মাত্র ৩৫ টাকায় ট্রেনের টিকেট কেটে কলকাতার শিয়ালদহে যাওয়া যায়। গেঁদে স্টেশন থেকে দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় কলকাতার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় ১৮ জোড়া ট্রেন। বিদ্যুৎচালিত এ ট্রেনে কলকাতা পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। কম খরচে সহজে ট্রেনে চেপে কলকাতায় যাওয়া যায় বলে দর্শনা-গেঁদে রুট পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছে পছন্দনীয়।

 

করোনাকালে প্রায় দেড় বছরের অধিককাল এ বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারীদের চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর গত ১৭ মে থেকে ভারত ফেরত পাসপোর্টধারী যাত্রীদের আসা শুরু হয় এবং ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া শুরু হয়।

 

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দর্শনা স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত আসা-যাওয়া করেছেন মোট ৭৫৩ জন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৩৬৭জন। আর ভারত থেকে এসেছেন ৩৮৬ জন।