পুলিশের উপর হামলা এসআই জখম: নৌকার ৬৯ সমর্থকের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়নের টিকারী বাজারে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

স্থানীয় নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ফাড়ির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তৌহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে শুক্রবার মামলাটি করেন। মামলায় ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৬৯জনকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ হাবিবুল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার (১৫ডিসেম্বর) রাতে ফুরসন্দি ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের স্বতন্ত্র¿ চেয়ারম্যান প্রাথী আবু সাঈদ শিকদারের নির্বাচনী প্রচারণার সময় লক্ষীপুর গ্রামের দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। রাতেই টিকারী বাজারে পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর শহিদুল ইসলাম শিকদারের নির্বাচনী কার্যালয় ও দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। বৃহস্পতিবার সকালে ফুরসিন্দ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী মাহমুদুল হক পলাশ মুন্সির (৩০) মৃত্যু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পলাশ মুন্সি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম শিকদারে সমর্থক ছিলেন।

 

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নাড়িকেলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পে এসআই তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। সেখানে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনার পর নাড়িকেলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পে এসআই আহত তৌহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। মামলা নং ২৫/১৭। মামলায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাই আসাদ শিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার হাবিবুল নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য বুধবার রাতে ফুরসন্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নৌকা ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। ফুরসুন্দি ইউনিয়নের টিকারি বাজার, লক্ষিপুর ও ফুরসুন্দি গ্রামে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসি জানায়, দুই প্রার্থী একই গোষ্ঠির এবং সম্পর্কে তারা মামা ভাগ্নে। তাদের বাড়িও পাশাপাশি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (অপারেশন) আবুল খায়ের জানান, বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এজাহারভুক্ত আসামী গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।