দামুড়হুদায় বিজিবির সোর্স কে গুলি করে হত্যা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা দর্শনা থানার সীমান্তবর্তী নাস্তিপুর গ্রামে বিজিবির সোর্স হয়রত আলি বিশ্বাস ওরফে হযো কে (৫০) গুলি করে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। নিহত হযরত আলি নাস্তিপুর গ্রামের বাদলা বিশ্বাস এর ছেলে। মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানায়,রাতে সে নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুবৃত্তরা তাকে ঘরের জানালা দিয়ে গুলি করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসাধী অবস্থায় সে মারা যায়।

 

নিহত হযরত আলীর ছেলে নাঈম হাসান তৌফিক বলেন, রাতের   খাবার খেয়ে বাবা ও মা আমার পাশের ঘরেই ঘুমিয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরে আমিও ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। এসময় মায়ের চিৎকারে পাশের ঘরে ছুটে যেয়ে দেখি বাবার মাথা দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছে। এসময় রাস্তার ধারের জানালাটাও খোলা অবস্থায় ছিল। আমাদের চিৎকার শুনে আমার চাচাত ভাই মুকুলসহ প্রতিবেশীরাও ছুটে আসে।  মুকুল ভাই ও আমি দ্রুত বাবাকে মোটর সাইকেলযোগে প্রথমে দর্শনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। কিন্তু   ক্লিনিকের কেউ দরজা না খুললে আমরা সেখান থেকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে রায়।

 

নিহত হযরত আলীর ছোট ভাইয়ের ছেলে মুকুল বলেন, ‘আমার চাচার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি কৃষিকাজসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) লাইন ম্যান (সোর্স) হিসেবেও কাজ করতেন। কেন তাকে এভাবে গুলি করা হলো, আর কেই বা করলো? আমরা বুঝতে পারছিনা।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, রাত সোয়া দুইটার দিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় হযরত আলী নামের এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। তার পরিবারের সদস্যরা জানায় তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রথমেই আমরা রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌন তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে গুলিটি এখনও তার মাথার মধ্যেই রয়েছে।

 

স্থানীয়রা আরো জানায় চলতি মাসে সীমান্তবর্তী এলাকাকা থেকে বিজিবি র্স্বণের বড় চালান আটক করে এর জের ধরে এই হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পর রাতেই  আমি ও দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহত ওই কৃষক বিজিবির সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতে পেরেছি। তবে ঠিক কী কারণে কে বা কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। নৃশংস এই ঘটনাটির তদন্তে ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে তিনি আরও জানান।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার সকালে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।