ওমিক্রন: ভারতে শুরু হয়ে গেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ

সর্বনাশা দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ওমিক্রনের প্রভাবে ভারতে শুরু হয়ে গেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। দেশটির টিকাদান কর্মসূচীর কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপের (এনটিজিআই) প্রধান ডা. এনকে অরোরা সোমবার দেশবাসীকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

 

গত জুলাইয়ের পর থেকে ভারতে কাটতে শুরু করেছিল দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ। দৈনিক সংক্রমণও নেমে আসছিল ক্রমান্বয়ে। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করে দৈনিক সংক্রমণের হার এবং বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ও বড় শহরগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভারতে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৭৫০ জন। এই আক্রান্তদের অধিকাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত।

 

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই মেডিকেল কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতে ওমিক্রনে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তারপর শেষ সপ্তাহে দেখা যায়, প্রতিদিন যত রোগী করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ১২ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

‘চলতি সপ্তাহে এই হার আরও বেড়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের ২৮ শতাংশই ওমিক্রনের শিকার।’

 

‘এটি হলো জাতীয় পর্যায়ের গড় হিসাব। দেশের গ্রামাঞ্চল বা ছোট শহরগুলোর তুলনায় বড় শহরগুলোতে ওমিক্রনে আক্রান্তের হার আরও অনেক বেশি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য বলছে- দিল্লি, মুম্বাই ও কলকাতা এবং বিশেষ করে দিল্লিতে, বর্তমানে যারা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ৭৫ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

 

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০০। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে- ৫১০ জন। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতে সার্বিকভাবে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েছে ২২ শতাংশ।

 

ভারত করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে আছে উল্লেখ করে ডা. অরোরা বলেন, ‘গত একমাসে ভারতে দৈনিক সংক্রমণের যে হার দেখা যাচ্ছে- তাতে এটি পরিষ্কার যে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে এবং করোনার রূপান্তরীত ধরন ওমিক্রনই এর জন্য দায়ী।’

 

ভারতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি, কেরালায়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ কোটি ৪৯ লাখ ২২ হাজার ৮৮২ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৩ জনের।

 

এটি অবশ্য সরকারি হিসেব। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে করোনায় মোট আক্রান্ত-মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অন্তত ৪ গুণ বেশি।