চুয়াডাঙ্গায় কবর খুঁড়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবু হুরায়রার খোঁজ মিলেছে। তবে মৃত অবস্থায়।

 

রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই গ্রামের কবরস্থান থেকে তার অর্ধগলিত হাত-পা বাধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ বলছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী মোমিন নামে এক যুবক গলাটিপে হত্যা করে পুরাতন কবরের মধ্যে লাশ পুঁতে রাখে। হত্যার পর বাড়িতে চিরকুট পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করে হত্যাকারীরা। এর ২৫ দিন পর লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আবু হুরায়রার স্বজনরা। তাদের চোখেমুখে কেবলই শিশু হত্যার বিচারের দাবি।

 

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার তালতলা গ্রামের কবরস্থানে ডেকে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করা হয় শিশু আবু হুরায়রাকে। এরপর তাকে একটি পুরাতন কবরের মধ্যে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে কেটে যায় ২৫টি দিন। খোঁজ মেলে না আবু হুরায়রার। অবশেষে গেল মধ্যরাতে ওই কবরস্থানের ভেতর থেকে শিশুর হাত পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ বলছে, দুই বছর আগে গ্রামে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করে আবু হুরায়রার বাবা আব্দুল বারেক। সে সময় একটি সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে গেলে ক্ষুব্ধ হয় মোমিন। এরই জেরে টার্গেট করা হয় শিশু আবু হুরায়রাকে। গত ১৯ জানুয়ারি তাকে একা পেয়ে খরগোশ ছানা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কবরস্থানের মধ্যে নিয়ে যায় মোমিন। সেখানেই গলাটিপে হত্যা করা হয় শিশুকে। এরপর লাশ গুম করতে একটি পুরাতন কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর ১০ লাখ টাকা দাবি করে একটি চিরকুট পাঠানো হয় শিশুর বাড়িতে। টাকা দাবি করে মোবাইলে কলও দেয় হত্যাকারীরা। এরই সূত্র ধরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক ব্রিফিংয়ে বলেন, হত্যাকারীরা শিশুকে হত্যার ১৭ দিনের মাথায় চাঁদা দাবি করে একটি চিরকুট পাঠায়। সেখানে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এরপর শিশুর বাবার মোবাইলে ফোনকলের মাধ্যমেও চাওয়া হয় চাঁদা। ওই নম্বরের সূত্র ধরে গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নির্মাণশ্রমিক মোমিনকে আটক করে পুলিশ। তার জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিতে কবরস্থানের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

এদিকে ছয় বোনের একমাত্র আদরের ভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্বজনরা। শোকে স্তব্ধ গোটা এলাকা। তাদের চোখে-মুখে কেবলই শিশু হত্যার সর্বোচ্চ বিচারের দাবি। যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করতে না পারে তেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর। গত ১৯ জানুয়ারি প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন শিশু আবু হুরায়রা। এরপর ২৬ জানুয়ারি প্রাইভেট শিক্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করে তার বাবা। সে মামলায় প্রাইভেট শিক্ষক রনজু ও তার ভাই মনজু কারাগারে রয়েছে।