চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিত কয়েদির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হাশেম আলী (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টা ২০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।

 

হাশেম আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বকুল হোসেনের ছেলে। ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেল সুপার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ-জামান জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন হাসেম আলী। কারাগারে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন হাশেম আলী মারা যান।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময় বিধি অনুযায়ী মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের দরিদ্র এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন হাসেম আলী। এরপর ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ওই কিশোরী বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট আদালতে মামলা করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

দামুড়হুদা মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তকালে তিনি বাদী ও তার শিশু কন্যার ডিএনএ টেস্ট করে ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একমাত্র আসামি হাসেম আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

বিজ্ঞ আদালত এ মামলায় তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হাসেম আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন। একই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই কিশোরীর শিশুকন্যার যতদিন বিয়ে না হবে ততদিন তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।